Thursday, December 02, 2010

আর হরতাল নয়ঃ সংসদে গিয়ে সরকারের সমালোচনা করুন

প্রধান বিরোধী দল বিএনপির ডাকে এক মাসে দুটি হরতাল হয়ে গেল। গতকালের হরতালকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ গরম হয়ে উঠেছিল। এ সময় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধরপাকড় হয়েছে, বিএনপির মিছিলে পুলিশের লাঠিপেটা হয়েছে, হরতালের আগের রাতে রাজধানীতে গাড়িতে আগুন দেওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল হরতালের দিনও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও লাঠিপেটা হয়েছে। বিরোধী দলের ডাকা হরতাল যেমন হয়, তা-ই হয়েছে। জনগণ দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে, তারা স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারেনি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের অর্থনীতি, স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্য চলেনি, ব্যাহত হয়েছে শিল্প-কলকারখানার উৎপাদন। হরতালের মতো কর্মসূচি না দেওয়ার জন্য বিএনপির প্রতি বিভিন্ন মহলের জোরালো আবেদন ও আহ্বান সত্ত্বেও দুঃখজনকভাবে দলটি তাতে সাড়া দিল না।
আমাদের দেশে বিরোধী দল সব সময়ই ‘গণতান্ত্রিক অধিকার’ হিসেবে হরতালের মতো কর্মসূচি পালন করে থাকে। জনগণ যদি বিরোধী দলের আহ্বানে সাড়া দিয়ে হরতাল পালন করত, তাতে হয়তো কোনো আপত্তি থাকার কারণ ছিল না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, জনগণ হরতাল পালন করতে বাধ্য হয়। বিরোধী দল তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারের নামে রাস্তায় গাড়িতে আগুন দেয়, গাড়ি ভাঙচুর করে। গতকালের হরতালের আগের রাতেও এ ঘটনা ঘটেছে। জনগণকে হরতাল পালনে বাধ্য করতে ভয় দেখানোর জন্য এসব করা হয়। আমরা দেখেছি, হরতালের আগে বিএনপির নেতারা গণসংযোগ করেছেন, লিফলেট দিয়ে জনগণকে হরতাল পালনে আহ্বান জানাচ্ছেন। কিন্তু গাড়ি ভাঙচুর ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার কী দরকার ছিল? বিরোধী দল নিশ্চিতভাবেই দাবি করবে যে এটা তারা করেনি। তবে করেছে কারা? হরতাল ডাকা হলেই যেহেতু এ ধরনের ঘটনা ঘটে, তাই এ ধরনের কর্মসূচি পরিহার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
নব্বই-পরবর্তী সময়ে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কোনো সরকারকে হরতাল করে ক্ষমতাচ্যুত করা বা সরকারের ক্ষতি করা যায়নি। ক্ষতি যা হয়েছে, তা দেশের ও দেশের অর্থনীতির। আর দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে দেশের জনগণকে। আন্দোলনের অস্ত্র হিসেবে হরতাল তাই পুরোনো, সেকেলে ও অকার্যকর হয়ে পড়েছে। আর সবচেয়ে বড় কথা, দেশের জনমত যেহেতু হরতালের পক্ষে নয়, তাই রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত ভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে জনগণের কাছে যাওয়া। হরতালের ক্ষতিকর অভিজ্ঞতা আমাদের বছরের পর বছর ধরে হয়েছে, গতকাল আবার হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে হরতাল ডাকার বিরোধিতায় আমরা অক্লান্ত। গতকালের হরতালের পর আমরা আবারও আহ্বান জানাই, আর হরতাল নয়।
সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকারের কাজের সমালোচনা, বিরোধিতা ও তর্ক-বিতর্কের জায়গা সংসদ। সরকার ও সরকারি দলের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে বিরোধী দল বিএনপির অভিযোগের শেষ নেই। আমরা চাই, হরতাল না করে সংসদে ফিরে গিয়ে বিএনপি সেই সব কথা বলুক। জনমত সৃষ্টির এটাই সবচেয়ে কার্যকর পথ।

দখল-সংস্কৃতি বন্ধ হোক

রাজনীতির পালাবদল কিংবা ক্ষমতার হাতবদল হয়, হয়ে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। কিন্তু ক্ষমতার পথে পা রাখতেই জনসাধারণের সঙ্গে শুরু হয় প্রতারণার প্রতিশ্রুতি। যে দলই ক্ষমতায় আসে_শোনায় রাশি রাশি স্বপ্ন-সম্ভাবনার কথা, কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই নির্মম বাস্তবতা প্রত্যক্ষ করে একরাশ হতাশা নিয়ে জনগণ নিশ্চুপ হয়ে যায়। সাধারণ মানুষের দুর্দিনের পরিবর্তন ঘটে না_সহজে ঘটবেও না তা জেনেশুনেই হয়তো ব্যালটে সিল মারেন সবাই। এ দেশের বাস্তুভিটায় টিকে থেকে বাঁচতে হলে কাউকে না কাউকে ভোট দিতে হবে, তাই দেওয়া। জনগণ চুপচাপ চেয়ে দেখে ক্ষমতার সঙ্গে বদলায় অনেক কিছুই অনেকের। যাঁরা ক্ষমতার পাশাপাশি অবস্থান করেন, ক্ষমতার স্পর্শে থাকার জন্য ঠেলাঠেলি-ধাক্কাধাক্কি করেন নিজেদের বদলানোর জন্য, তাঁদের দিন বদলায়।
নিদেনপক্ষে অন্য কোনো সুযোগ না ঘটলেও সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন দখল-বাণিজ্যে। যেমন_রাজধানীর মিরপুরের 'জিয়া স্মৃতি ক্লাব' রাতারাতি 'রাসেল স্মৃতি সংঘ' হয়ে গেল। পত্রিকার এ খবরটি পড়ে আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয় না, এরূপ সাইনবোর্ড বদলে যাওয়া শুধু মিরপুরে নয়, দেশজুড়েই চলছে। আর এ-ও নিশ্চিত যে আগের সাইনবোর্ডটিও ছিল দখলসূত্রে, বৈধতা ছিল না। তাই দেশের মানুষ এ সম্পর্কে কোনো কথা বলে না, কৌতূহল পর্যন্ত প্রকাশ করে না। সবাই মনে করে, যে দল ক্ষমতায় যায় তার লোকজন খায়_এ যেন অলিখিত এক চুক্তি মোতাবেক চলছে। কখনো কখনো সংঘর্ষ বাধে বটে; কিন্তু বড় কোনো বিপত্তি ঘটে না হাতবদলের রীতিতে। কিছুদিন আগে তেজগাঁওয়ে রেলওয়ের ৩০ কাঠা জমি শ্রমিক লীগ নেতা দখল করে নিলেন। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, এরূপ দুই হাজার একর জমি বেদখল রয়েছে। তা নিশ্চয়ই কোনো জনস্বার্থমূলক খাতে ব্যবহৃত নয়, রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী ব্যক্তি বা মহলের মুষ্টিতে। পত্রিকান্তরে পাওয়া খবর অনুযায়ী সূত্রাপুরে ভবনসহ জমি ও মন্দির দখল করে নিয়েছে প্রভাবশালী ভূমি দুর্বৃত্তচক্র। 'নারায়ণগঞ্জের সরকারি জমি দখল করে অফিস বানাচ্ছে আ. লীগের ক্যাডাররা'_পত্রিকার প্রতিবেদনটি জানান দেয়, দেশের সর্বত্র এ দুর্নীতির রীতি প্রতিষ্ঠিত।
আমরা মনে করি না ক্ষমতার শীর্ষে যেসব নেতা আছেন, তাঁরা সবাই এ সংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন। যাঁরা এমন অপরাধে প্রশ্রয় দিচ্ছেন না, তাঁদের সোচ্চার হতে হবে সাধারণ মানুষের স্বার্থে।
৩১ অক্টোবর পত্রিকান্তরে শেখ রেহানার একটি লেখা অনেকে পড়েছেন, 'সম্প্রতি আমি লক্ষ করছি আমার বাবা, মা ও ভাইদের নামে বিভিন্ন সংগঠন গড়ে তোলার প্রতিযোগিতা...কিছু লোক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে খালি জায়গা দখল...। বুঝতে পারি এসব অপকর্মের খবর সবারই জানা। তবে এর প্রতিকার কেন হবে না? সরকার ইচ্ছে করলে এ দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করতে পারে। দেশের স্বার্থে, সরকার ও সরকারি দলের স্বার্থে এসব বন্ধ করা উচিত।'

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপান সব সময়ই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকালে নতুন সহযোগিতার আশ্বাস মিলেছে। বাংলাদেশের জন্য এটা অনেক বড় পাওয়া। বিশেষ করে পদ্মা সেতু নির্মাণে অতিরিক্ত ১০ কোটি ডলার সাহায্যের আশ্বাস মিলেছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এই অতিরিক্ত ঋণ সহায়তা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। ২৯০ কোটি ডলার ব্যয়ের এ বিশাল প্রকল্পে জাপান আগেই ৩০ কোটি ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।জাপান অনেক দিন আগে থেকেই বাংলাদেশে নানা প্রকল্পে সহায়তা করে থাকে। বাংলাদেশে জাপানের বিনিয়োগও কম নয়। প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের ভেতর দিয়ে দুই দেশের বর্তমান সম্পর্ক আরো জোরদার হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করা গেলে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ আরো বাড়বে। বাংলাদেশে এখন বিনিয়োগের পরিবেশ রয়েছে। অর্থনীতিতে মন্দাভাব কাটিয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস প্রণীত পরবর্তী ১১টি উদীয়মান দেশের তালিকায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে আরো একটি মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বিরাজ করছে বলে স্বীকার করেছে। তবে এটাও ঠিক, জাপানের সঙ্গে বেশ কিছু ক্ষেত্রে বাণিজ্য ঘাটতিও রয়েছে। এসব বাণিজ্য ঘাটতি দূর করাও জরুরি। প্রধানমন্ত্রী সেদিকেও আলোকপাত করেছেন। বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে জাপানের সঙ্গে একটি সমন্বিত চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের জিএসপি বা জেনারালাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্সেস সুবিধা লাভের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে 'রুলস অব অরিজিন' শিথিল করার জন্য জাপান সরকারকে অনুরোধ
করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
বিদ্যুৎ, অবকাঠামো, আইটি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবহন, টেঙ্টাইলসহ অন্যান্য খাতে জাপানের বিনিয়োগ আহ্বান করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আশা করা যেতে পারে, প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের ভেতর দিয়ে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। গভীর সমুদ্রবন্দর, নতুন বিমানবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণসহ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় জাপান সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যেকোনো দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কোন্নয়নের প্রথম শর্ত পারস্পরিক সম্পর্কোন্নয়ন। বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের সম্পর্ক সব সময়ই বন্ধুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপান সব সময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ আরো বাড়ানোর জন্য এখন কাজ করতে হবে। দুই দেশের মধ্যে সম্ভাবনার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন একটি লাভজনক অর্থনীতির দেশ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। জাপানের মতো বিনিয়োগকারী দেশের কাছে বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য করে তুলে ধরতে পারলে সেটা বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের মধ্য দিয়ে উভয় দেশের জন্য সম্ভাবনার সেই নতুন দিগন্তই উন্মোচিত হতে যাচ্ছে বলে মনে করা যেতে পারে।

Thursday, August 14, 2008


FLYING LIKE A PIGEON: China's Deng Linlin performs on the floor during the women's team final of the artistic gymnastics event in the 2008 Beijing Olympics yesterday. China won the gold while United States won the silver and Romania, the winners in this event at Athens four years ago, took the bronze. Photo:

Olympics' new king is Phelps

Now Five Down, Three More To Go: US swimming superstar Michael Phelps roars after winning the men's 4x200m freestyle relay in the 2008 Beijing Olympics at the National Aquatics Centre yesterday. Photo: