Sunday, May 15, 2011

ওবামাকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন ওসামা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তাদের হত্যা করতে চেয়েছিলেন আল-কায়েদার শীর্ষনেতা ওসামা বিন লাদেন। ২০১২ সালে অনুষ্ঠেয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বানচাল করার জন্যই তিনি ওবামাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল এরিক হোল্ডার ব্লুমবার্গ টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন।
ওসামাকে হত্যার পর তাঁর কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। সেগুলো থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে এসব বিষয় জানা যায় বলে উল্লেখ করেন এরিক হোল্ডার। তিনি জানান, ওসামার কম্পিউটারসহ অন্যান্য সরঞ্জাম গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এখনো পর্যালোচনা করে দেখছেন। জব্দ করা সরঞ্জামসহ বিভিন্ন নথি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পেতে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পর্যালোচনা করা হতে পারে। এরিক হোল্ডার জানান, নাইন-ইলেভেনের দশম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে হামলা চালানোরও পরিকল্পনা ছিল ওসামার।
হোল্ডার বলেন, একজন ব্যক্তিকে নিয়ে তিনি এখনো উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। সেই ব্যক্তি হলেন আল-কায়েদার অন্যতম নেতা আনোয়ার আল আওলাকি। ২০০৯ সালে ডেট্রয়েটগামী একটি বিমানে নাইজেরিয়ার একজন নাগরিকের হামলা চালানোর চেষ্টার সঙ্গে আওলাকির সম্পৃক্ততা রয়েছে। ওই হামলার চেষ্টারও মূল হোতা ছিলেন ওসামা বিন লাদেন। কমান্ডোদের জব্দ করা নথি থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, এটা একেবারেই স্পষ্ট যে, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ওসামা আল-কায়েদা পরিচালনা করছিলেন।
জিজ্ঞাসাবাদের নিষ্ঠুর কৌশল ব্যবহার করেই ওসামার অবস্থান সম্পর্কে জানা গেছে কি না, এমন এক প্রশ্নের জবাবে হোল্ডার বলেন, ‘এ বিষয়টি আমার কাছে স্পষ্ট নয়।’ তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় সিআইএর কর্মকর্তারা কোনো ভুল করেছেন কি না, তার তদন্ত চলছে। এ ব্যাপারে অনেক অগ্রগতিও হয়েছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওই তদন্ত শেষ হতে পারে।
ওসামার কম্পিউটারে পর্নোগ্রাফি?: মার্কিন কমান্ডোদের জব্দ করা ওসামার কম্পিউটারে পর্নোগ্রাফির ভিডিওচিত্র ছিল। গতকাল শনিবার মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করে মার্কিন এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, ওসামা বা ওই বাড়িতে থাকা অন্য লোকজন পর্নো ভিডিওচিত্র সংগ্রহ করেছেন বা দেখেছেন, এমন কোনো প্রমাণ আছে কি না, তা জানাতে অস্বীকৃতি জানান ওই মার্কিন কর্মকর্তা।
গত ২ মে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের অদূরে অ্যাবোটাবাদের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ওসামাকে হত্যা করে মার্কিন কমান্ডোরা।

ন্যাটোর বোমা আমার নাগাল পাবে নাঃ মুয়াম্মার গাদ্দাফি

লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি বলেছেন, তিনি এখন এমন অবস্থানে রয়েছেন, ন্যাটোর বোমা তাঁর নাগাল পাবে না। গত শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক অডিওবার্তায় তিনি এ কথা বলেন। এর আগে ইতালি দাবি করে, গাদ্দাফি আহত হয়েছেন এবং দৌড়ের ওপর রয়েছেন। লিবিয়া সরকার তাদের এ দাবি নাকচ করে দিয়েছে।
গাদ্দাফি বলেন, ‘প্রতিপক্ষ কাপুরুষদের জানাতে চাই, আমি এমন এক স্থানে আছি, যেখানে পৌঁছানো বা আমাকে হত্যা করা সম্ভব না। আমি আছি লাখো মানুষের অন্তরে।’ তিনি বলেন, ন্যাটো জোট বৃহস্পতিবার ত্রিপোলিতে তাঁর বাব আল-আজিজিয়া কম্পাউন্ডে বিমান হামলা চালায়। এতে ‘তিনজন নির্দোষ সাংবাদিক’ নিহত হন।
লিবীয় সরকার অভিযোগ করেছে, দেশটির তেলসমৃদ্ধ নগর ব্রেগায় ন্যাটো জোটের ওই বিমান হামলায় বেসামরিক লোকজন মারা গেছে। তবে এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে ন্যাটো জোট।
ইতালি-ভিত্তিক বার্তা সংস্থা এএনএসএ জানায়, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঙ্কো ফ্রাত্তিনি বলেছেন, বৃহস্পতিবার চালানো ওই বিমান হামলায় সম্ভবত গাদ্দাফি আহত হয়েছেন এবং তিনি ত্রিপোলি ছেড়ে পালিয়েছেন। এ ব্যাপারে ত্রিপোলির বিশপ বলেন, ‘গাদ্দাফি সম্ভবত আহত’ হয়েছেন। কিন্তু ইতালির কাছে গাদ্দাফির অবস্থান ও তাঁর স্বাস্থ্যের ব্যাপারে ‘বিশ্বাসযোগ্য তথ্য’ নেই।
ফ্রাত্তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক চাপের মুখে কোনো নিরাপদ স্থানে আশ্রয় খুঁজতে পারেন গাদ্দাফি।’
আল-আরাবিয়া টেলিভিশন জানায়, পশ্চিমাদের এসব প্রতিবেদনের পরপরই লিবীয় সরকারের মুখপাত্র মুসা ইব্রাহিম পশ্চিমাদের দাবি নাকচ করে বলেন, গাদ্দাফি আহত হননি। লিবিয়ার জনগণের মনোবল দুর্বল করার উদ্দেশে পশ্চিমারা গাদ্দাফি আহত হওয়ার খবর ছড়িয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিমান হামলায় বেসামরিক লোকজন নিহত হওয়ার খবরের জবাবে ন্যাটো জোট গতকাল ব্রাসেলসে এক বিবৃতিতে বলেছে, বেসামরিক লোকজনকে লক্ষ্য করে নয়, ত্রিপোলি থেকে ৭৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি সামরিক নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে এই হামলা চালানো হয়।
দুই সপ্তাহ আগে ন্যাটো জোটের এক বিমান হামলায় গাদ্দাফির ছোট ছেলে সাইফ আল-আরব গাদ্দাফি ও তিন নাতি-নাতনি নিহত হওয়ার পর ওই হামলায় লিবীয় নেতা গাদ্দাফিও মারা গেছেন বলে গুজব ছড়ায়। কিন্তু গত বুধবার টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, লিবীয় নেতা কয়েকজন উপজাতীয় নেতার সঙ্গে বৈঠক করছেন।
লিবিয়ার সরকারি টেলিভিশনে বলা হয়েছে, ব্রেগা নগরে ন্যাটো বিমান হামলায় অন্তত ১৬ জন মারা গেছে। তবে তা এখনো গাদ্দাফি-সমর্থিত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেখানকার একটি অতিথিশালাকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে চ্যানেলটি দাবি করেছে।

বামদের কেন এই বিপর্যয়?

মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিল। মমতা সেটা বুঝেছিলেন। বামেরা বুঝতে পারেনি। এ কথাই বললেন বাম নেতা গৌতম দেব, যিনি নির্বাচনের আগে অনেক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন। কিন্তু কেন বিপর্যয় তা নিয়ে বামফ্রন্টের মধ্যেই ‘চুলচেরা’ বিশ্লেষণ চলছে। সেটা জানতে অপেক্ষা করতে হবে। ১৭ মে সিপিআইএম এ ব্যাপারে বৈঠক করবে।

রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি মানস ভূঁইয়া বলেছেন, শুধু নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠুভাবে ভোট করেছে বলেই এ ফল হয়েছে। আগের নির্বাচনও যদি এমনভাবে হতো, তাহলে তাদের পতন তখনই ঘটত।
বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেন, ‘এই ফলাফল অপ্রত্যাশিত। দলের যে মূল্যায়নের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার আমরা ১৯৯ আসনের কাছাকাছি আসন পাব বলেছিলাম, সেটি ছিল ভুল।’ ভোটের পরে সাংবাদিকদের সাঁড়াশি প্রশ্নের মুখে তিনি বলেন, ‘পরাজয়ের কারণ আমরা চুলচেরা বিশ্লেষণ করব। সে মতে আমরা শিক্ষা নেব। পরে আপনাদের জানাব।’
দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি ১৩ মে বলেছেন, বামদের ভোট আগের নির্বাচনের চেয়ে আট শতাংশ কমেছে। মমতার দলের ভোট আট শতাংশ বেড়েছে। এই ভোট কংগ্রেসের। জয়-পরাজয় এ কারণেই।
তবে বামদের পরাজয়ের জমি অনেক আগে থেকেই ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছিল। ২০০৬ সালের ৩০ নভেম্বর হুগলি জেলার সিঙ্গুরে বামফ্রন্ট সরকার টাটাদের মোটর কারখানার জন্য জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেয়। মমতা এর বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন করেন। ধর্মতলায় টানা ২৭ দিন অনশন করেন। এর ফলে তৃণমূলের মাটি আস্তে আস্তে শক্ত হতে থাকে। একইভাবে ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসে নন্দীগ্রামে রাজ্যসরকার কেমিক্যাল হাব করতে জমি অধিগ্রহণে উদ্যোগী হন। ওই জমি উর্বর এবং এলাকাটি মুসলিম অধ্যুষিত। সেখানে গুলিতে ১৪ জন নিহত হয়। পশ্চিমবঙ্গের বুদ্ধিজীবীরা মৌনতা ভেঙে রাজপথে নামেন। এর সুফল আসে ২০০৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে। প্রথমবারের মতো তৃণমূল ১৯ জেলার মধ্যে দুটি জেলা পরিষদ দখল করে। অন্যদিকে কংগ্রেস পায় তিনটি জেলা। স্থানীয় সরকারের পঞ্চায়েতব্যবস্থা তিন স্তরের। গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদ। প্রায় সব জেলায় প্রথম দুটি স্তরে তৃণমূল ও কংগ্রেস যথেষ্ট সাফল্য পায়। ওই সময় তৃণমূল ও কংগ্রেস অলিখিত আসন সমঝোতা করেছিল। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ওই ধারাবাহিকতায় দুটি দল জোট গড়ে। ওই নির্বাচনে তৃণমূল আগের একটি আসনের পরিবর্তে ১৯টি ও কংগ্রেস সাতটি আসন পায়।
তবে সবচেয়ে বড় কারণ কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসকে কাছে আসতে দেওয়া। ২০০৮ সালে বামদলগুলো কেন্দ্রে কংগ্রেস সরকারের ওপর থেকে বামরা সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়। ওই সময় প্রণব মুখার্জি বামদের বলেছিলেন, ‘কেন্দ্রে আমাদের দূরে ঠেলে দিলেও আমরা বাঁচব। কিন্তু রাজ্যে আপনারা খেসারত দেবেন।’
কংগ্রেসের এই প্রবীণ রাজনীতিকের কথা অক্ষরে অক্ষরে ফলে গেল।

বুধবারের মধ্যে শপথ নেবেন মমতা

আগামী বুধবারের আগেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর গত শুক্রবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল এম কে নারায়ণনের সঙ্গে দেখা করেন মমতা। আজ-কালের মধ্যে রাজ্যপাল মমতার দলকে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানাতে পারেন।

তৃণমূলের একটি সূত্র জানায়, দিন চূড়ান্ত না হলেও আগামী ১৮ মে বুধবারই নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নিতে পারে। ২০০১ ও ২০০৬ সালের ১৮ মে মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তবে তৃণমূলের অন্য একটি সূত্র বলেছে, বুধবারের আগেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন মমতা। একটি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম অবস্থায় ১৫ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠিত হতে পারে। বামফ্রন্টের মন্ত্রিসভা ছিল ৪৪ সদস্যের।
এদিকে আজ রোববার বিকেলে তৃণমূল কংগ্রেসের নবনির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠক বসার কথা। এই বৈঠকে মমতাকে বিধানসভার নেতা নির্বাচন করা হবে।
মন্ত্রিসভায় কংগ্রেসকে যোগদানের আমন্ত্রণ: তৃণমূল কংগ্রেস জোটের অন্যতম শরিক কংগ্রেসকে রাজ্য মন্ত্রিসভায় যোগদানের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মমতা। গতকাল রাতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জির সঙ্গে বৈঠকে মমতা এ আমন্ত্রণ জানান। মমতা আরও বলেন, ‘আমরা চাই, প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং কংগ্রেসের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী আমাদের শপথ গ্রহণের দিন উপস্থিত থাকবেন। আমি প্রণবদার সঙ্গে নয়াদিল্লি যাব এবং তাঁদের আমন্ত্রণ জানাব।’ তবে মন্ত্রিসভায় কংগ্রেস যোগ দেবে কি না, তা এখনো দলটি নিশ্চিত করেনি।
মন্ত্রী হচ্ছেন যাঁরা: মমতা আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা স্থান পাবেন। মন্ত্রী হতে পারেন বলে যাঁদের নাম শোনা যাচ্ছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: অমিত মিত্র, মনীশ গুপ্ত, রবি রঞ্জন চট্টোপাধ্যায়, ব্রাত্য বসু, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়, জাভেদ খান, ববি হাকিম, মদন মিত্র, সুদর্শন ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ্ত রায়, হায়দার আজিজ শফি, অশোক দেব, গৌতম দেব ও তাপস রায়।
এদিকে ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক ইকোনমিক টাইমস গতকাল বলেছে, মন্ত্রিসভার আকার ছোট হবে কি না, সে ব্যাপারে কোনো আভাস না পাওয়া গেলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম দফায় প্রায় ২৪ জন মন্ত্রী নিতে পারেন। নতুন মন্ত্রিসভায় দু-একজন নারীও থাকতে পারেন বলে জানিয়েছে পত্রিকাটি। এ ক্ষেত্রে শশী পাঁজা ও স্বাতী খন্দকারের নাম শোনা যাচ্ছে। স্বাতী হুগলি থেকে নির্বাচিত প্রয়াত তৃণমূল সাংসদ আকবর খন্দকারের স্ত্রী। শশীও তাঁর স্বামীর মৃত্যুর পর তৃণমূলের রাজনীতিতে যোগ দেন।
ইকোনমিক টাইমস বলেছে, ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ফিকি) সাধারণ সম্পাদক অমিত মিত্র এবং বিধানসভার সাবেক বিরোধী নেতা পার্থ চ্যাটার্জি উভয়েই মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর পেতে পারেন। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়টি মমতা নিজের হাতে রাখতে পারেন। মন্ত্রিসভায় গৌতম দেবকে অন্তর্ভুক্ত করে মমতা উত্তর বাংলার জনগণকে সন্তুষ্ট করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে মমতা ওই অঞ্চলে উন্নয়নমূলক কাজ শুরুর ইঙ্গিত দেবেন।
মুসলমানদের সন্তুষ্ট করতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকেও এক বা দুজন মন্ত্রী নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে মমতার। এ ক্ষেত্রে ববি হাকিমের নাম এখন সবার মুখে। নির্বাচনী প্রচারণায় মমতার খুব ঘনিষ্ঠ হিসেবে দেখা গেছে ববি হাকিমকে। তিনি কলকাতা বন্দর আসন থেকে জয়ী হয়েছেন।
৫৩ মুসলিম বিধায়ক: রাজ্যে এবার ৫৩ জন মুসলিম বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে ২২, কংগ্রেস থেকে ১৩ এবং বামফ্রন্ট থেকে ১৮ জন।
২৭ মন্ত্রী পরাজিত: মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যসহ ৩৫ জন মন্ত্রী নির্বাচনে অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীসহ ২৭ জন পরাজিত হয়েছেন। জয়ী হয়েছেন আবদুর রেজ্জাক মোল্লা, সূর্যকান্ত মিশ্র, আনিসুর রহমান, সুশান্ত ঘোষ, দশরথ তিরকে, দেব লীনা হেমব্রম, পরেশ অধিকারী ও সুভাস নস্কর।

Saturday, March 12, 2011

সর্বোচ্চ আদালতে বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা

বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা। তিনি বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ইতিহাসে প্রথম নারী বিচারপতি হলেন। হাইকোর্টেও অবশ্য তিনিই প্রথম নারী। আজকের এই অবস্থানে আসতে তাঁকে পার করতে হয়েছে নানা প্রতিকূলতা, বাধা-বিপত্তি। তবে সবকিছু জয় করে তিনি এখন দেশের ও বিচার বিভাগের ইতিহাসের অংশ।
মেয়েরা আবার ‘উকিল’ হয় নাকি!
নাজমুন আরা সুলতানার কর্মজীবনের শুরু আইনজীবী হিসেবে। ১৯৭২ সালের জুলাই মাসে ময়মনসিংহ জেলা আদালতে। তখন লোকে বলত, মেয়েরা আবার ‘উকিল’ হয় নাকি! এই মেয়ে কী ওকালতি করবে? লোকের এসব ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ আর তাচ্ছিল্য পাশ কাটিয়ে তিনি সামনে এগিয়েছেন।
বেড়ে ওঠার গল্প
১৯৫০ সালের ৮ জুলাই মৌলভীবাজারের আবুল কাশেম মঈনুদ্দীন ও রশীদা সুলতানা দম্পতির ঘরে জন্ম নেন নাজমুন আরা সুলতানা। তাঁরা তিন বোন ও দুই ভাই। বাকি চার ভাইবোনের সঙ্গে শৈশব-কৈশোরের সময়টা কেটেছে ময়মনসিংহে। এই শহরের বিদ্যাময়ী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে ১৯৬৫ সালে তিনি এসএসসি পাস করেন; ১৯৬৭ সালে মুমিনুন্নেসা উইমেন্স কলেজ থেকে এইচএসসি এবং আনন্দ মোহন কলেজ থেকে ১৯৬৯ সালে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।
মায়ের উৎসাহে বাবার স্বপ্নপূরণ
মাত্র ১১ বছর বয়সে বাবাকে হারান নাজমুন আরা সুলতানা। তবে তিনি তাঁর বাবার স্বপ্নকে হারাতে চাননি। বাবার ইচ্ছা ছিল, তাঁর সন্তানদের কেউ একজন আইনজীবী হবে। বাবার স্বপ্নপূরণে এগিয়ে আসেন তিনি। বিএসসি পাসের পর তিনি মোমেনশাহী ল কলেজে ভর্তি হন। তবে ওই সময় ব্যাপারটা এত সহজ ছিল না। আইন কলেজে রাতে ক্লাস করতে হতো। রাতের বেলা একজন অবিবাহিত মেয়ে ক্লাস করতে যাবে—এটা আশপাশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। এ সময় পাশে এসে দাঁড়ান তাঁর মা রশীদা সুলতানা। তিনি ছিলেন ময়মনসিংহের রাধাসুন্দরী গার্লস হাইস্কুলের শিক্ষিকা। প্রতিকূলতা জয় করে সামনে এগিয়ে যেতে মেয়েকে উৎসাহ আর সমর্থন দেন তিনি। বাবার স্বপ্ন আর সেই স্বপ্ন পূরণে মায়ের সমর্থন পেয়ে ১৯৭২ সালে তিনি এলএলবি পাস করেন।
বিচারক হতে বাধা
আইনজীবী হয়ে বাবার স্বপ্ন পূরণ তো হলো! এবার নিজের স্বপ্নের পাখাটা মেলে ধরার ইচ্ছে জাগল মনে। স্বপ্ন—এবার তিনি বিচারক হবেন। কিন্তু আবার বাধা। আর এই বাধাটা তৈরি করে রেখেছিল রাষ্ট্র নিজেই। রাষ্ট্রের কাছে মনে হয়েছে, নারী বিচারক হওয়ার যোগ্য নয়। এই পদটা নারীর জন্য নয়। তবে ১৯৭৪ সালে এই অদ্ভুত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। স্বপ্নপূরণের পথটা সুগম হয় নাজমুন আরা সুলতানার জন্য। বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পরের বছর ১৯৭৫ সালের ২০ ডিসেম্বর তিনি মুনসেফ হিসেবে বিচার বিভাগে যোগ দেন।
ভিড় ঠেকাতে পুলিশ ফোর্স
বাংলাদেশের প্রথম নারী বিচারক হিসেবে নাজমুন আরা সুলতানা যখন খুলনায় দায়িত্ব পালন করতে যান, তখন মুখোমুখি হন এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার। আশপাশের লোকজন দল বেঁধে তাঁকে দেখত আসত। সেই ভিড় সামাল দিতে প্রথম দিকে মাঝেমধ্যে পুলিশ ফোর্সও রাখা হতো।
নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালতে
মুনসেফ হিসেবে নাজমুন আরা সুলতানা খুলনা, নারায়ণগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮২ সালে সাবজজ হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে তিনি টাঙ্গাইল ও ফরিদপুরে পাঁচ বছর কাজ করেন। কয়েক দফা পদোন্নতির পর ১৯৯১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা জজ হিসেবে যোগ দেন। কোনো নারীর জেলা জজ হওয়ার ঘটনা সেটাই প্রথম। ২০০০ সালের ২৮ মে তিনি হাইকোর্টে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এর দুই বছর পর হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হন তিনি। সর্বশেষ ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি আপিল বিভাগের প্রথম নারী বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন।
ফতোয়া অবৈধ
হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে নাজমুন আরা সুলতানা অনেক রায় দিয়েছেন। তবে ফতোয়া অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া রায় অনেক বেশি আলোচিত ও প্রশংসিত হয়েছিল। ২০০১ সালের ১ জানুয়ারি বিচারপতি গোলাম রাব্বানী ও বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ফতোয়াকে অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করে রায় দেন।
এ ছাড়া গত বছরের ১৩ অক্টোবর বিএনপির চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের বাড়ি নিয়ে রায়, জোট আমলে বাদ পড়া ১০ জন বিচারপতিকে স্থায়ী নিয়োগের নির্দেশ দিয়ে ২০০৮ সালের ১৭ জুলাই দেওয়া রায় আছে তাঁর দেওয়া উল্লেখযোগ্য রায়ের তালিকায়।
কাজের স্বীকৃতি, নারীর ক্ষমতায়ন
আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা সাংবাদিকদের বলেন, ‘অনুভূতি অনেক ভালো। আমি আমার কাজের স্বীকৃতি পেয়েছি। প্রথম নারী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলাম। হাইকোর্টেও প্রথম বিচারপতি হিসেবে এসেছিলাম। এবারও আপিল বিভাগে প্রথম বিচারপতি হিসেবে এলাম।’ তিনি মনে করেন, তাঁর এই নিয়োগ দেশে নারীর ক্ষমতায়নে অবদান রাখবে।
স্বামী-সন্তানের অকুণ্ঠ সমর্থন
বিয়ের আগে মায়ের উৎসাহ ও প্রেরণা। বিয়ের পরে সেই দলে নাম লেখান নাজমুন আরা সুলতানার স্বামী কাজী নুরুল হক। স্ত্রীর বদলির চাকরি। এক বছর এই জেলায় তো পরের বছর অন্য জেলায়। কিন্তু এতে বিরক্ত হননি কাজী নুরুল হক, স্ত্রীকে ফেলেননি চাকরি বনাম সংসারের দ্বন্দ্বে, বরং স্ত্রীকে তাঁর দায়িত্ব পালনে পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। একসময় এই দম্পতির ঘর আলো করে আসে দুই ছেলে উপল ও সূর্য। তাদের পড়াশোনা, দেখভাল করা—এর বেশির ভাগটাই সামাল দিয়েছেন কাজী নুরুল হক। ছেলেরাও বড় হতে হতে বুঝেছেন তাঁদের মায়ের কাজের ধরন আর সম্মানের বিষয়টি। তারাও কখনো এটা-সেটা নিয়ে অন্যায় আবদার করেননি। স্ত্রীর এই অর্জনে স্বভাবতই অনেক খুশি ও গর্বিত কাজী নুরুল হক। সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের সচিব পদ থেকে অবসরে গেছেন। দুই ছেলেই প্রকৌশলী হয়েছেন। বড় ছেলে কাজী সানাউল হক উপল অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন। ছোট ছেলে কাজী এহসানুল হক সূর্য দেশেই কাজ করছেন।
প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা আর সাহসিকতা
‘অল্প কথায় বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা সম্পর্কে বলা মুশকিল। তিনি অসম্ভব প্রজ্ঞাবান, দূরদর্শী ও সাহসী। তাঁর এই গুণগুলোই তাঁকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।’ বলছিলেন বাংলাদেশ মহিলা জজ অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব শারমিন নিগার। বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা ছিলেন এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। সংগঠনটি গড়ে তোলার সময়কার কথা স্মরণ করে শারমিন নিগার বলেন, ওই সময় নারী বিচারকদের নিয়ে আলাদা একটি সংগঠন গড়ে তোলা সহজ কাজ ছিল না। পদে পদে বাধা এসেছে। কিন্তু অসম্ভব দৃঢ়তা, সাহস ও ধৈর্য নিয়ে সেসব বাধা পার করেছেন তিনি। এ ছাড়া বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা আন্তর্জাতিক মহিলা জজ অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম ডাইরেক্টর।