Monday, June 13, 2011

হরতালে মাঠে ছিল আওয়ামী লীগ

বিএনপির ডাকা ৩৬ ঘণ্টা হরতালের বিপক্ষে মাঠে ছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তার বিভিন্ন সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতারা। প্রথম দিনে গতকাল রাজধানীর ঢাকার বিভিন্ন স্থানে মিছিল, মিটিং ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে আওয়ামী লীগসহ দলের সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা এবং কর্মীরা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও তাদের কয়েকটি সংগঠনকে হরতালের বিপক্ষে রাজপথে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে। তারা হরতাল চলাকালীন সময়ে শহরের বিভিন্ন সড়কে বিচ্ছিন্নভাবে মিছিল করে।

গতকাল সকাল থেকে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ এবং ধানমন্ডি কার্যালয়ের সামনে যুব মহিলা লীগের নেতাকর্মীদের সংগঠিত হয়ে মিছিল করতে দেখা গেছে। এছাড়া বিভিন্ন স্তরের নেতারা হরতাল চলাকালীন দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে অবস্থান নিতে দেখো যায়।
হরতাল চলাকালে নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সহ-সভাপতি ফয়েজউদ্দিন মিয়া, মুকুল চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, আবদুল হক সবুজ, সহিদুল ইসলাম মিলনসহ বিভিন্ন নেতা দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান গ্রহণ করেন। এছাড়া যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ তাদের কার্যালয়ে বসে স্ব স্ব সংগঠনের নেতারা তাদের কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
সকাল সোয়া ৯টায় ছাত্রলীগ (দক্ষিণ) সভাপতি আনিসুর রহমান আনিস ও সাধারণ সম্পাদক শেখ আনিস-উজ-জামান রানার নেতৃত্বে একটি মিছিল বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর সামনে সেস্নাগান দিতে থাকে। দ্বিতীয় দফা সকাল সাড়ে ১০টায় বড় মিছিল নিয়ে রাজধানীর জিরো পয়েন্ট, জিপিও, পল্টন, বিজয় নগর ও কাকরাইল প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ করে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাস্তার বিভিন্ন মোড়ে সতর্ক অবস্থানে থাকলেও মিছিলে বাধা দেয়ার কোন ঘটনা ঘটেনি। হরতালবিরোধী এ মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর ছাত্রলীগ নেতা রাজেস কুমার সিংহ, মো. বায়েজিদ খান, মো. সেলিম তাহিদ, সাজ্জাদ হোসেন সজিব প্রমুখ।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে জাতীয় শ্রমিক লীগের একটি ছোট মিছিল বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেইট থেকে মিছিল শুরু করে পার্টি অফিসের সামনে এসে শেষ করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের নেতৃত্বে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ, কবি নজরুল ইসলাম কলেজের উদ্যোগে ছাত্রলীগ ভিক্টোরিয়া পার্কের আশপাশে, তিতুমীর কলেজ হোস্টেল শাখা ছাত্রলীগ কলেজের আশপাশে, ইডেন কলেজ ছাত্রলীগ পলাশী মোড়ে মিছিল করে। এছাড়া মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগ, রামপুরা থানা আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট এলাকায় হরতালের বিপক্ষে মিছিল করে। যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ মতিঝিলে মিছিল করে।
হরতালে আওয়ামী লীগের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে নগরের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম 'সংবাদ'কে বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান গ্রহণ করেছি। যাতে মানুষের জানমালের ক্ষতি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখছি।

ইউপি নির্বাচনে সহিংসতাঃ গুলিতে নিহত ২, তিন শতাধিক আহত

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে হামলা ভাঙচুর গুলি অগি্নসংযোগ ও হতাহতের ঘটনা ঘটেই চলছে। সারাদেশে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত দুইজন, আহত তিন শতাধিক। আটক আটজন। ঝিনাইদহে সংঘর্ষে গুলিবর্ষণ হয়েছে, আহত হয়েছে বিশজন, আটক দুজন। কুড়িগ্রামে ব্যালট পেপার ছিনতাইকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত শতাধিক, আটক পাঁচজন। সরাইলে (ব্রাক্ষণবাড়িয়া) সংঘর্ষে নিহত দুজন, আহত দশজন।

নবীনগরে (ব্রাক্ষণবাড়িয়া) আহত একজন এবং আটক একজন। মুক্তাগাছায় (ময়মনসিংহ) প্রতিপক্ষের বাড়িতে অগি্নসংযোগ করা হয়। সংঘর্ষে আহত হয় সাতজন। দুপক্ষ থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেছে। বিরামপুরে (দিনাজপুর) প্রিজাইডিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগ করেছে চারজন প্রার্থী। নির্বাচনী সহিংসতায় ও পুলিশের অস্ত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলার গ্রেফতার এড়াতে সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) বর্তমানে পুরুষ শূন্য। ময়মনসিংহে হামলার ঘটনায় দু চেয়ারম্যান প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি মামলা। মুন্সীগঞ্জে দফায় দফায় সংঘর্ষ হামলা ও পাল্টা হামলায় আহত শতাধিক। যশোরের অভয়নগর উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউপি নির্বাচনে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ করেছেন ইউনিয়নের এক চেয়ারম্যান প্রার্থী। দেশের নানা স্থান থেকে আমাদের সংবাদদাতা ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
ঝিনাহদহ : শৈলকুপায় ইউপি নির্বাচনে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দু'গ্রুপের সংঘর্ষে বিশজন আহত হয়েছে। এ সময় গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ দুই চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীকে আটক করেছে। সূত্র জানায়, উপজেলার ১১ নং আবাইপুর ইউনিয়নে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান থানা আওয়ামী লীগের সদস্য মোক্তার হোসেন মৃধা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এবং চেয়ারম্যান প্রার্থী আমজাদ হোসেন মোল্লার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ দু'গ্রুপে দ্বন্দ্ব রয়েছে। সূত্র জানায়, শনিবার রাতে যুগনী-বাঘিনী গ্রামে আমজাদ হোসেন মোল্লার মিটিংয়ের ওপর প্রতিপক্ষ হামলা চালালে ছয়জন আহত হয়। এর জের ধরে গতকাল সকালে মোল্লার লোকজন হাটফাজিলপুর বাজারে মৃধার নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালালে দুপক্ষে সংঘর্ষ লেগে যায়। এক পর্যায়ে মৃধা একটি বিল্ডিংয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে তিনি লাইলেন্স করা শটগান দিয়ে ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গোলা বর্ষণ, ইটপাটকেল ও ঢাল-সড়কির শব্দে বাজার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় আহত হয় বিশজন। আহতের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় দুজনকে ঝিনাইদহ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সংঘর্ষ চলাকালে হাটফাজিলপুর ক্যাম্পের পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। পরে শৈলকুপা থানা ও ঝিনাইদহ থেকে অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ ঘটনাস্থলে পেঁৗছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। শৈলকুপা থানার ওসি ছগির মিয়া জানান, আমজাদ হোসেন মোল্লা ও মোক্তার হোসেন মৃধাকে আটক করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকরা প্রিজাইডিং অফিসারের গতি রোধ করে ব্যালট পেপার ছিনতাই, আনসার সদস্যদের সঙ্গে হাতাহাতি এবং বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকদের মারধর করে। ছিনতাই হয় ব্যালট পেপারের বস্তাসহ তিনটি মোটরসাইকেল। এ সময় পুলিশ ও আনসার সদস্যসহ উভয় পক্ষের শতাধিক আহত হয়। পুলিশ পাঁচজনকে আটক করে। গুরুতর আহত অবস্থায় একজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়।
সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : সরাইলে পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় শনিবার উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাইসহ দুজন নিহত ও দশজন আহত হয়েছে। সূত্র জানায়, নির্বাচনের পরাজিত প্রার্থী মো. মনির উদ্দিনের লোকজন সকাল সাড়ে দশটায় উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকউদ্দিন ঠাকুরের বাড়িতে হামলা করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং বাড়ি ও কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করে। হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ঠাকুরের ভাই আনিস ঠাকুরকে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত লিলু মিয়া জেলা সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান।
নবীনগর (ব্রাক্ষণবাড়িয়া) : নবীনগর উপজেলার শ্রীরামপুরে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আজহার হোসেন জামালের সহকর্মী নুরু মিয়াকে দা ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। জানা গেছে, শনিবার রাতে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর সহকর্মী নুরু মিয়া মেয়ের বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে শিবির নামক স্থানে পৌঁছলে একই গ্রামের লিজনের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত দা ও চাপাতি দিয়ে তার হাত পা কেটে দেয়। স্থানীয় লোকজন নুরু মিয়াকে নবীনগর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত ডাক্তার আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করে। বর্তমানে সে পঙ্গু হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। এই ঘটনায় থানায় মামলা হলে পুলিশ গতকাল জসিম মিয়া নামে একজনকে আটক করেছে।
মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) : মুক্তাগাছার পাঁচ বাশাটী ইউনিয়নে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও প্রার্থীর বাড়িতে অগি্নসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই গ্রুপের সাতজন আহত হয়। থানায় পাল্ট-পাল্টি মামলা হয়েছে। সূত্র জানায়, দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম আকন্দ ও আব্দুল বারী সরকারের সমর্থকদের মধ্যে শনিবার ভোট নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হলে সন্ধ্যায় আকন্দের এক কর্মীকে প্রতিপক্ষের লোকজন মারধর করে। আকন্দের সমর্থকরা শনিবার রাতে প্রতিবাদ মিছিল বের করলে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। উভয়পক্ষের মধ্যে রাত দেড়টা পর্যন্ত বাঁশের লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষের সাতজন আহত হয় এবং বারী সরকারের বাড়িতে অগি্নসংযোগের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মুক্তাগাছা থেকে ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনী গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দুপক্ষ থানায় পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছে।
বিরামপুর (দিনাজপুর) : বিরামপুর উপজেলার চার নং দিওড় ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ করছে চারজন পরাজিত সদস্য পদপ্রার্থী। অভিযোগে বলা হয়, ৫ জুন অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে চার নং দিওড় ইউনিয়নের এক নং ওয়ার্ড রঘুনাথপুর ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সদস্য পদের প্রতিদ্বন্দ্বী মো. সুলতান মাহমুদ মিন্টুর যোগসাজশে ভোট গণনার আগে আমাদের এজেন্টকে হুমকি দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে মিন্টুকে বিজয়ী ঘোষণা করে। প্রতিবাদ করতে সে পুলিশকে দিয়ে আমাদের হুমকি দেয়। যে কারণে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এজেন্টদের স্বাক্ষর ছাড়াই ফলাফল শিট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেন।
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) : সুন্দরগঞ্জে নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় পুলিশের অস্ত্র ছিনতাইয়ের পর অস্ত্র উদ্ধার ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত দুজনকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও দায়েরকৃত মামলায় চলি্লশজন আসামি থাকায় গ্রেফতার আতংকে পুরো একটি গ্রাম এখনও পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। সরজমিনে উপজেলার বজরা কঞ্চিবাড়ীর গয়েসপাড়া এলাকায় দেখা গেছে, প্রতিটি বাড়িতে তালা। মহিলারা জানায়, ৫ জুন পুলিশ ও আনসারদের আহত করে কে বা কারা রাইফেল ছিনতাই করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক চেয়ারম্যানপ্রার্থীসহ দুজনকে আটক করা হলেও এজাহারে নাম অজ্ঞাত থাকায় গ্রামটির পুরুষরা এলাকায় ফিরছে না।
ময়মনসিংহ : ফুলবাড়িয়া উপজেলায় গতকাল ভোরে উপজেলার বালিয়ান ইউনিয়নে আ'লীগ চেয়ারম্যান প্রার্থীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করেছে আ'লীগের অপর চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর চারটার দিকে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মফিজ উদ্দিন ম-ল নির্বাচনী কার্যক্রম শেষে তেলিগ্রাম বাজারে আসার পথে চামার বাজাইল মোড়ে এসে পেঁৗছলে অপর আ'লীগের প্রার্থী মোতালেব সরকারের সমর্থকরা তাকে লাঞ্ছিত করে। এর তিন ঘণ্টা পর ম-লের সমর্থকরা মোতালেব সরকারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। মোতালেব সরকার বাদী হয়ে ফুলবাড়িয়া থানায় সত্তরজনের নামে মামলা দায়ের করেন। অপরদিকে মফিজ উদ্দিন ম-ল বাদী হয়ে আশিজনের নামে মামলা করেন।
মুন্সীগঞ্জ : মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের রাজারচর, সামারচর ও খাসকান্দি এলাকায় রিপন পাটোয়ারী ও শাহ আলম মলি্লকের সমর্থকদের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষ হামলা ও পাল্টা হামলায় আহত হয়েছে শতাধিক। জানা গেছে, ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলা পাল্টা হামলা এখনো অব্যাহত আছে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।
অভয়নগর (যশোর) : অভয়নগর উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউপি নির্বাচনে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লংঘনের লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী বিএম নজরুল ইসলাম। অভিযোগে জানা যায়, অভয়নগর থানার এএসআই জাহাঙ্গীর আলম ওই ইউনিয়নে একজন চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে সরাসরি নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন। যারা তার কথায় কাজ করতে রাজি হচ্ছেন না, তাদের গালি-গালাজ, হুমকি-ধমকি ও মারপিট করছেন। জাহাঙ্গীর আলম ১০ জুন অপ্রাপ্ত বয়স্ক ইমরান হোসেনকে চশমা প্রতীকের পোস্টার লাগাতে বললে ইমরান অপারগতা প্রকাশ করায় তাকে বেদম মারপিট করে অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

তত্ত্বাবধায়ক-ব্যবস্থা নিয়ে আন্দোলনের সেকাল, একাল

১৮ বছর আগের ঘটনা। ১৯৯৩ সালের ৬ ডিসেম্বর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে এক জনসভায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই জাতীয় নির্বাচন হতে হবে। তাই অবিলম্বে পদত্যাগ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। অন্যথায় সারা দেশে গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’ একই দিন জাতীয় সংসদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘জনগণ ভোট দিয়েছে সংসদে এসে কথা বলার জন্য। হরতাল, ভাঙচুর করে দেশের উন্নয়ন হবে না। যা বলার সংসদে এসে বলুন। আসুন, সংসদে আলোচনা করে সব সমস্যার সমাধান করি।’

১৯৯৩ সালের ৭ ডিসেম্বর ভোরের কাগজ-এর প্রথম পাতায় এ সংবাদ ছাপা হয়েছিল। ১৮ বছর আগে আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার দাবিতে হরতাল-অবরোধ করেছে। বিএনপি সে সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিকে অসাংবিধানিক উল্লেখ করে আওয়ামী লীগকে সংসদে এসে সব বিষয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে।
আর এখন বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে রাজপথে। আওয়ামী লীগ সংসদে এসে আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছে।
১৯৯৩ সালের শেষ দিকে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি সামনে নিয়ে আসেন। সারা দেশে গণআন্দোলন গড়ে তোলেন। ১৯৯৪ সালের ১০ ও ২৬ এপ্রিল এই দাবিতে হরতাল ডাকে আওয়ামী লীগ। এরপর সচিবালয় ঘেরাও, অবরোধ, মশাল মিছিল, পদযাত্রাসহ নানা কর্মসূচি পালন করে দলটি। বিএনপি বিরোধী দলের এই দাবিকে পুরোপুরি অযৌক্তিক বলতে থাকে। এ পরিস্থিতিতে ’৯৪ সালের ৩ জুন দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান।
ওই সময়ের পত্রপত্রিকা ঘেঁটে দেখা যায়, ’৯৪ সালের ২৭ জুন সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার সম্মেলনকক্ষে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীসহ সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী পাঁচটি বিরোধী দল এ সময় উপস্থিত ছিল।
এ রূপরেখার প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুস সালাম তালুকদার সংসদে বলেন, অসাংবিধানিক কোনো দাবি মেনে নেওয়া যায় না। নিরপেক্ষ ব্যক্তির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হওয়া সম্পর্কে খালেদা জিয়া সে সময় বলেছিলেন, ‘পাগল এবং শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নন।’
১৯৯৪ সালের ১ অক্টোবর ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে এক সমাবেশে খালেদা জিয়া বলেন, ‘গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে এবং হতে হবে। কারণ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধান পরিপন্থী। ৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া হরতাল ও নৈরাজ্যের কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের সরকার পরিচালিত আর্থসামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি করা কারও জন্যই শোভন নয়।’ জাতীয় সংসদকে সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু অভিহিত করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘সংসদেই সব বিষয়ের নিষ্পত্তি সম্ভব।’ (ভোরের কাগজ, ৪ অক্টোবর ১৯৯৪)
রাজনৈতিক সমঝোতার লক্ষ্যে কমনওয়েলথের মহাসচিব এমেকা এনিয়াওকুর বিশেষ দূত স্যার নিনিয়ান স্টিফেন ’৯৪ সালের ১৩ অক্টোবর ঢাকায় আসেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন। একপর্যায়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি সর্বদলীয় মন্ত্রিসভা গঠনের কথা বলেন। এই সরকারে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারি দলের পাঁচজন এবং বিরোধী দলের পাঁচজন মন্ত্রী থাকার প্রস্তাব করেন। আওয়ামী লীগ এই দাবি নাকচ করে দেয়। ’৯৪-এর ২৮ ডিসেম্বর পঞ্চম সংসদের ১৪৭ জন বিরোধীদলীয় সদস্য একযোগে পদত্যাগ করেন। এরপর শুরু হয় টানা হরতাল-আন্দোলন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি না মেনে ’৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন করে বিএনপি। আওয়ামী লীগ এই নির্বাচন বর্জন করে আন্দোলন করতে থাকে। ’৯৬-এর ৯ মার্চ থেকে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের হরতাল ডাকে আওয়ামী লীগ। ১০ মার্চ শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে দেন।
আওয়ামী লীগের আন্দোলন সত্ত্বেও খালেদা জিয়া ২৭ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করে নতুন সংসদ অধিবেশন শুরু করেন। ’৯৬ সালের ২১ মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে। এরপর ব্যাপক আন্দোলনের মুখে ওই অধিবেশনেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল আনা হয়। সর্বসম্মতিক্রমে বিলটি পাস হয়। এরপর রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন এবং সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিযুক্ত হন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা চালু হওয়ার পর ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১৯৯৪, ১৯৯৫ ও ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং জামায়াতে ইসলামী অভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে মোট ৯৬ দিন হরতাল, অবরোধ এবং অসহযোগ কর্মসূচি পালন করে। এসব কর্মসূচিতে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের পাশাপাশি একটি লাগাতার ৯৬ ঘণ্টা, দুটি ৭২ ঘণ্টা এবং পাঁচটি ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ডাকা হয়। তবে ’৯৬ সালে ক্ষমতায় গিয়ে আওয়ামী লীগ হরতাল না করার ঘোষণা দিয়েছিল।
১৯৯১ এবং ২০০১ সালে ক্ষমতায় গিয়ে হরতালের বিপক্ষে কথা বলতে থাকেন খালেদা জিয়া। হরতাল করে দেশকে ধ্বংস না করার জন্যও তিনি বিরোধী দলসহ সবাইকে আহ্বান জানান। সংসদে এসে আলোচনা করে সব সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান। কিন্তু এখন সংসদে না গিয়ে হরতাল কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি মোজাফ্ফর আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, সবকিছুরই যেন পুনরাবৃত্তি চলছে। যখনই যারা ক্ষমতায় গেছে, তারাই প্রশাসনকে কাছে টেনে তাদের পক্ষে সবকিছু করার চেষ্টা করেছে। এটা কাম্য নয়। আর ’৯৬ সালে বিএনপি অনেক দুর্বল অবস্থায় ছিল বলে দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের সে অবস্থা নেই যে তারা দাবি মেনে নিতে বাধ্য হবে।
বর্তমান অবস্থায় করণীয় কী জানতে চাইলে মোজাফ্ফর আহমদ বলেন, তাত্ত্বিকভাবে বলতে গেলে সব সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত সংসদে। এটাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। কিন্তু সংসদের যে পরিবেশ, সেখানে যেভাবে বিএনপি নেতাদের গিবত করা হয়, তাতে দুই দল মিলে আলোচনা করার কোনো পরিবেশ নেই। একমাত্র সুশীল সমাজই পারে এ অবস্থায় ভূমিকা রাখতে। কিন্তু সেখানেও বিভক্তি। সুশীলরা আনুগত্য দেখাতেই ব্যস্ত। তার পরও যদি শিক্ষক, আইনজীবী সাধারণ মানুষ—সবাই মিলে দুই দলের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি করাতে পারে এবং দুই দলকে আলোচনায় বসাতে পারে, তাহলে সমস্যার সমাধান হবে।

আলতাফ ও হাফিজ গ্রেপ্তার, অসহায় মানুষ, আতঙ্কে হরতালকারীরা

বিএনপি ও জামায়াতের খুব বেশি নেতা-কর্মী রাজপথে ছিলেন না। কারণ, ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয়। যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা স্বাভাবিকভাবে মিছিল-পিকেটিং করতে পারেননি। কারণ, র্যাব-পুলিশের অবস্থান ছিল কঠোর। রাজধানী ঢাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল ছিল না। দোকানপাট ছিল বন্ধ। তবে রিকশা, কিছুসংখ্যক অটোরিকশা, হিউম্যান হলার, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাস চলাচল করেছে।

বিএনপি-জামায়াতের ডাকে ৩৬ ঘণ্টার টানা হরতালের প্রথম দিন গতকাল রোববারের সংক্ষিপ্ত চিত্র ছিল এমনই। আজ সোমবার সন্ধ্যা ছয়টায় এ কর্মসূচি শেষ হবে।
এরই মধ্যে চিকিৎসা, ব্যক্তিগত বা পেশাগত জরুরি কাজে যাঁদের বাইরে বেরোতে হয়েছে, তাঁদের দুর্ভোগের কোনো সীমা ছিল না। পরিবহনের অভাবে দীর্ঘ সময় বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে তাঁদের। অনেকে বেশি ভাড়া দিয়ে রিকশা বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাতায়াত করেছেন।
হরতালের প্রথম দিনে গতকাল পুলিশ ও হরতাল-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে শতাধিক আহত হয়েছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে ৫৮ জনের। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির দুই ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ রয়েছেন। গাড়ি পোড়ানোর মামলায় রাতে তাঁদের দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
রাত ১২টায় গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম প্রথম আলোকে বলেন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও হাফিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট থানায় রয়েছেন।
একতরফাভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল, সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস মুছে ফেলা, মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সুসম্পর্কের ধারা বিলুপ্তির অপচেষ্টা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির তীব্র সংকট, শেয়ার-বাজার ধস ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অর্থ লুণ্ঠনের অভিযোগ তুলে দল দুটি এ হরতাল ডেকেছে। বিএনপি-জামায়াতের পাশাপাশি কয়েকটি ধর্মভিত্তিক সংগঠনের মোর্চা সম্মিলিত উলামা-মাশায়েখ পরিষদও হরতালে সমর্থন দেয়।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়: হরতালের প্রথম প্রহর থেকে অবরুদ্ধ ছিল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ২০ জনের মতো কেন্দ্রীয় নেতা দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন। বাইরে থেকে কোনো নেতা-কর্মীকে সেখানে যেতে দেয়নি পুলিশ। আশপাশের এলাকা থেকে বিএনপির কর্মী সন্দেহে সারা দিনে অন্তত ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুর রহমান, মহিলা দলের সভাপতি নূরী আরা সাফা, যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুস সালাম আজাদ, কৃষক দলের শাহজাহান মিয়া প্রমুখ।
সকাল ছয়টার পর মির্জা ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দিনের প্রথম মিছিল বের করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। এখানে জয়নুল আবদিন ফারুকের সঙ্গে পুলিশের বাগিবতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। থামাতে গিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম মাটিতে পড়ে যান এবং ডান হাতে ব্যথা পান। পুলিশ সেখান থেকে আট নেতা-কর্মীকে আটক করে।
কিছুক্ষণ পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মিছিলে বাধা ও গ্রেপ্তার অব্যাহত থাকলে লাগাতার হরতাল দেওয়ার হুমকি দেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘পুলিশ যেভাবে আমাদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে, তা চলতে থাকলে প্রয়োজনে আমরা ৭২ ঘণ্টা ও সাত দিনের হরতাল দিতে বাধ্য হব।’ তিনি বলেন, কোনো ধরনের পিকেটিং ছাড়াই জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনে হরতাল পালিত হচ্ছে। জনগণই হরতাল সফল করছে।
সকাল নয়টার দিকে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের একজন হাকিম অবস্থান নেন। বেলা পৌনে ১১টার দিকে মহিলা দলের সভাপতি নূরী আরা সাফা দলীয় কার্যালয়ে যেতে চাইলে তাঁকে আটক করে পুলিশ। তাঁকে টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তোলার ছবি ক্যামেরায় ধারণের সময় সাংবাদিকদের বাধা দেন সাদা পোশাকের কয়েকজন পুলিশ সদস্য। তাঁদের সঙ্গে সাংবাদিকদেরও বাগিবতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ফটোসাংবাদিকদের লাঠিপেটা করে পুলিশ। আহত হন চ্যানেল আইয়ের মঞ্জুরুল ইসলাম, এটিএন বাংলার মহসিন, দেশ টিভির শিবলী, এনটিভির তাপস ও কালের কণ্ঠ পত্রিকার রফিকুর রহমান।
পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে রাজপথে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সাংবাদিকেরা। তাঁরা সড়কের ওপর ক্যামেরা ও খাতা-কলম রেখে প্রতিবাদ জানান।
সকাল সাড়ে আটটার দিকে নয়াপল্টনে লা-লুনা রেস্তোরাঁর কাছে দৈনিক আমার দেশ-এর অটোরিকশার চালক রফিকুল ইসলামকে পুলিশ পেটায়। তাঁকে ইসলামী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুরো দিনে বিএনপির কার্যালয়ের আশপাশে ছয়টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এর মধ্যে সকাল সোয়া আটটায় ফকিরাপুল মোড়ের কাছে তিনটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। বেলা সোয়া ১১টার দিকে মহানগর কার্যালয়ের ছাদে দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। বেলা সোয়া একটায় বিএনপি অফিসের সামনে ফের আরেকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়।
কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, জয়নুল আবদিন ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, শহীদ উদ্দিন চৌধুরীসহ বেশকিছু নেতা-কর্মী তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
সকাল সাড়ে আটটার দিকে কাকরাইল মোড় থেকে যুবদলের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নেতৃত্বে মিছিল বের হলে তাতে বাধা দেয় পুলিশ। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন ও নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক শিকদারের নেতৃত্বে শান্তিনগর মোড় থেকে মিছিল বের হয়।
বেলা ১১টার দিকে শনির আখড়ায় সালাহ্ উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে শতাধিক নেতা-কর্মী একটি মিছিল বের করলে পুলিশ ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
বিকেলে হরতাল প্রসঙ্গে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম দাবি করেন, গতকাল বিকেল পর্যন্ত সারা দেশে বিএনপির সাত শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আহত হয়েছেন শতাধিক নেতা-কর্মী।
মিরপুর: মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় হরতালের সমর্থনে কাউকে মাঠে দেখা যায়নি। হরতালের বিপক্ষে দিনভর মিছিল ও মোটরসাইকেল মহড়া দিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। মিরপুর ও পল্লবী থানা আওয়ামী লীগের কার্যালয় মোহনা ভবনের সামনে দিনভর ছিল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ভিড়। ভবনটির সামনে দুই পাশের সড়কে প্রচুর মোটরসাইকেল পার্ক করা ছিল বিকেল পর্যন্ত। ওই সব মোটরসাইকেল নিয়ে কিছুক্ষণ পর পর হরতালবিরোধী মিছিল করেছেন নেতা-কর্মীরা। বেলা ১১টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হরতালবিরোধী প্রথম মোটরসাইকেল মিছিলটি বের হয়। এ মিছিলে ৩৫-৪০টি মোটরসাইকেল ছিল। প্রতিটি মোটরসাইকেলে তিনজন করে লোক ছিল। তারা হঠাৎ একসঙ্গে হর্ন বাজিয়ে স্লোগান দেওয়া শুরু করলে মানুষ কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
তবে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিরপুর ১ নম্বরের ইয়াংসি চায়নিজ রেস্তোরাঁর সামনে একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। কয়েক মিনিট পরই মিরপুর ১ নম্বর পুলিশ বক্স থেকে কয়েক গজ দূরে একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনা অনুত্তাপ হরতালে সামান্য উত্তাপ তৈরি করে। আওয়ামী লীগের কর্মীরা বোমাবাজির অভিযোগে দুই কিশোরকে আটক করে মারধর করে পুলিশে দেয়। পরে আবার আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারাই তাদের ছাড়িয়ে নেন। পুলিশ জানায়, তারা স্থানীয় রেস্তোরাঁর কর্মী ও শ্রমিক। ঘটনাস্থলে তাদের পেয়ে আওয়ামী লীগের কর্মীরা ধরে আনেন।
সকালে মিরপুর ১৩ নম্বরে দুটি বাস আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় অজ্ঞাত লোকজন। হারম্যান মেইনার স্কুলের সামনে একটি স্টাফবাস ও মিরপুর কমিউনিটি সেন্টারের সামনে মাইলাইন পরিবহনের একটি বাস সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়।
তবে দিনভর মিরপুর থেকে বিভিন্ন রুটের বাস চলাচল করেছে। সংখ্যায় ছিল খুব কম। হিউম্যান হলারগুলো নির্দিষ্ট রুটের বাইরে চলাচল করেছে। সকালে বিপুলসংখ্যক মানুষকে ভ্যান ও পিকআপে করে অফিসে যেতে দেখা গেছে। সকাল আটটা পর্যন্ত গাবতলীতে দু-একটি দূরপাল্লার বাস এসে পৌঁছায়। তবে ওই সব বাসের যাত্রীদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। ব্যাগ-বোঁচকা নিয়ে অনেককে দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। গাবতলী থেকে কোনো বাস ঢাকার বাইরে ছেড়ে যায়নি।
মহাখালী: মহাখালীতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির দুই ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও হাফিজ উদ্দিন আহম্মদসহ ১৫ জনকে আটক করে পুলিশ। সকাল পৌনে ১০টার দিকে মহাখালীর সেতু ভবনের সামনে থেকে দুই নেতাকে পুলিশ ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়।
এর আগে সকাল সোয়া নয়টায় মহাখালীর আমতলী এলাকা থেকে স্থানীয় যুবদলের নেতা-কর্মীরা মিছিল বের করলে পুলিশ লাঠিপেটা করে। এতে সাতজন আহত হন। ওই সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। বেলা সাড়ে নয়টায় তিতুমীর কলেজের বিপরীত পাশে মালঞ্চ রেস্তোরাঁর সামনে থেকে পুলিশ শিপু, জসীমউদদীন, মোশাররফ হোসেন নামের বিএনপির তিন কর্মীকে আটক করে। এ সময় আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও হাফিজ উদ্দিনের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়।
গ্রেপ্তারের আগে আলতাফ হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, সরকার একতরফাভাবে সংবিধান সংশোধন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের ষড়যন্ত্র করছে। বিএনপি তা মেনে নেবে না। তাঁর অভিযোগ, সকাল থেকেই পুলিশ তাঁদের মালঞ্চ রেস্তোরাঁয় অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মালঞ্চ রেস্তোরাঁর সামনে থেকে সাদিয়া হক, রুনু, মাধু নামের বিএনপির তিন নারী কর্মীকে পুলিশ আটক করে। তবে সাদিয়া হক জানান, তিনি বাজার করতে বেরিয়েছিলেন। তাঁকে জোর করে ভ্যানে তুলেছে পুলিশ।
পুলিশের গুলশান অঞ্চলের ডিসি খন্দকার লুৎফুল কবির দাবি করেন, পিকেটিংয়ের অভিযোগে মহাখালী এলাকা থেকে নয়জনকে আটক করা হয়েছে।
সকাল থেকে মহাখালী এলাকায় কিছু বাস, মিনিবাস ও সিএনজি অটোরিকশা চলতে দেখা গেছে। সকাল সাড়ে নয়টায় তিতুমীর কলেজের সামনে থেকে হরতালের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি মহাখালী গিয়ে শেষ হয়।
ছাত্রলীগের মিছিলের সামনে ককটেল: ছাত্রদল রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকা থেকে দুপুরে একটি মিছিল বের করার চেষ্টা করলেও র্যাব-পুলিশের মহড়ায় করতে পারেনি। তবে হরতালের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ছাত্রলীগ। চারুকলার সামনে সমাবেশ চলাকালে সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়।
ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ সাকিব অভিযোগ করেছেন, হরতালে যারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায়, তারাই এই কাজ করেছে। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বলেছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
জামায়াতের তৎপরতা: সকাল নয়টায় মতিঝিলের সেনাকল্যাণ ভবনের পাশ থেকে আচমকা মিছিল বের করে জামায়াত। সেখানেই তড়িঘড়ি সমাবেশ করে তারা দ্রুত সটকে পড়ে। দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল সেখানে বলেন, পদত্যাগ করে মধ্যবর্তী নির্বাচন দেওয়া ছাড়া সরকারের সামনে আর কোনো উপায় নেই।
এর খানিক পর পুরানা পল্টনে কালভার্ট রোড থেকে আরেকটি মিছিল বের করে জামায়াত। দলের শ্যামপুর থানা কমিটি সকাল ১০টায় যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা থেকে মিছিল বের করে। মিছিলটি দোলাইরপাড় যাওয়ার পথে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়। এতে মিছিলের নেতৃত্বে থাকা থানা কমিটির আমির রুহুল কুদ্দুসসহ নয়জন আহত হয়। জামায়াতের অভিযোগ, ছাত্রলীগের কর্মীরা দুজনকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
পল্লবীতে মিছিল করার চেষ্টা করলে জাহাঙ্গীর আলম, নূরুল আমীন, জামালউদ্দিন, হাবিবুল্লাহ, হাফেজ হোসাইনসহ ছয়জনকে আটক করে পুলিশ।
এ ছাড়া বেইলি রোড, মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ মিছিল বের করে জামায়াত। বেলা ১১টায় শাহজাহানপুরে একটি হিউম্যান হলারে আগুন দেয় দুষ্কৃতকারীরা।
জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন: জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, হরতাল বানচাল করার জন্য সরকার কেবল পুলিশ ও র্যাবকেই ব্যবহার করেনি, দলের ক্যাডারদেরও রাস্তায় নামিয়েছে।
গতকাল বিকেল চারটায় মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সকাল নয়টায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার দোলাইরপাড়ে জামায়াত মিছিল বের করলে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হামলা চালায়।
জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি বলেন, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য সরকার স্বৈরাচারী আইয়ুব খানের মতো ভ্রাম্যমাণ আদালত চালু করে তাৎক্ষণিক সাজা দিচ্ছে। এ পর্যন্ত জামায়াত-শিবিরের ১৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। দুপুর দুইটা পর্যন্ত সারা দেশে জামায়াত-শিবিরের ৬৯ জনকে পুলিশ আটক করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
হরতালে জনদুর্ভোগ বাড়ছে কি না জানতে চাইলে আজহার বলেন, যত তাড়াতাড়ি এ সরকারের পতন হবে, জনদুর্ভোগ তত তাড়াতাড়ি কমবে।
সম্মিলিত উলামা-মাশায়েখ পরিষদ: বেলা পৌনে দুইটায় রাজধানীর সোনারগাঁও রোডে মিছিল বের করলে পুলিশ সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী ও ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি মাওলানা আহমদ আলীকে আটক করে।
পুরান ঢাকা: বেলা সোয়া একটার দিকে পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে হরতাল সমর্থনকারীরা একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটালে এক পথচারী সামান্য আহত হন। সকালে পিকেটিং করার অভিযোগে আকবর হোসেন নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশ।
হরতালবিরোধী মিছিল করেন কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সোহ্রাওয়ার্দী কলেজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী ও সদরঘাটের ঘাট-শ্রমিকেরা। সকাল থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধান ফটক অবরোধ করে রাখেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

রাজপথে তৎপর পুলিশ, বিএনপি নেতা আলতাফ-হাফিজ গ্রেপ্তার

হরতালের প্রথম দিনে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, গ্রেপ্তার ও বিক্ষিপ্ত কয়েকটি ঘটনা ছাড়া সারা দেশে মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবেই হরতাল পালিত হয়েছে। তবে রাজধানীর মহাখালীতে বিএনপি মিছিল বের করার চেষ্টা করলে দলের ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ বীরবিক্রমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিএনপি বলেছে, হরতালকে কেন্দ্র করে এ পর্যন্ত তাদের সাত শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

৩৬ ঘণ্টার টানা হরতাল শেষে আজ সন্ধ্যায় নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবে বিএনপি, জামায়াত ও সমমনা দলগুলো। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলের পরিকল্পনার প্রতিবাদে এবং সংবিধান সংশোধনের সুপারিশ প্রত্যাহারের দাবিতে গতকাল রবিবার থেকে আজ সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত একটানা হরতাল আহ্বান করেছে বিএনপি ও জামায়াত। হরতালের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে সমমনা দলগুলো। তবে সম্মিলিত ওলামা-মাশায়েখ পরিষদ এক দিনের হরতাল রবিবার পালন করেছে। আজ তাদের হরতাল নেই।
গতকালের হরতালে রাজধানীতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও মহাখালী এলাকা ছাড়া বিএনপির নেতা-কর্মীদের মিছিল-পিকেটিং করতে তেমন দেখা যায়নি। তবে মহাখালীর ওয়্যারলেস গেট এলাকায় বিএনপির পক্ষ থেকে মিছিল বের করার চেষ্টা করা হলে দলের ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ বীরবিক্রমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গাড়ি পোড়ানো মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে গুলশান থানার ওসি শাহ আলম কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন। আজ দুজনকে আদালতে হাজির করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
গতকাল বিএনপি কার্যালয়ের আশপাশে এবং মিরপুরে অন্তত ২০টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। সন্ধ্যার পর বিএনপি কার্যালয়, গাজী ভবন, নাইটিঙ্গেলের সামনে এবং ফকিরাপুলে দুটি করে আটটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এর আগে সকাল সোয়া ৮টায় ফকিরাপুল মোড়ের কাছে তিনটি, সোয়া ১১টার দিকে বিএনপি মহানগর কার্যালয়ের ছাদে দুটি, দুপুর সোয়া ১টায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ফের একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। বিকেল পৌনে ৪টায় সিটি হার্ট মার্কেটের সামনে আরো দুটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটলে কনস্টেবল হাবিব ও হাবিলদার মামুন আহত হন। গত ৫ জুনের বিএনপির হরতালে একই চিত্র ছিল।
এদিকে হরতালে ব্যাপক ধরপাকড় অব্যাহত রেখেছে পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। পুলিশ বলেছে, হরতাল চলাকালে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী ও সমর্থককে আটক করা হয়েছে। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে অনেক ব্যক্তিকে সাজা দিয়েছেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারের শত নির্যাতন সহ্য করেও জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে হরতাল পালন করছে। রাজধানী ও বিভিন্ন জেলা থেকে ৭০০ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
গতকাল দুপুর পর্যন্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কাউকে দাঁড়াতেই দেয়নি পুলিশ। এ নিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কয়েকজন নেতার সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। মিরপুর, উত্তরা, শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, ধানমণ্ডি, ডেমরা, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন স্থানে বিএনপির কর্মীদের মিছিল বের করতে বাধা দেয় পুলিশ। বেশ কয়েকটি স্থানে পুলিশ মিছিলকারীদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।
জোটের অন্যতম শরিক দল জামায়াতে ইসলামী রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মিছিলের চেষ্টা করলে পুলিশের বাধায় রাস্তায়ই দাঁড়াতে পারেননি দলটির কোনো সদস্য। এ সময় রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে জামায়াতের আটজনকে আটক করে পুলিশ।
এদিকে হরতাল চলাকালে রাজধানী ঢাকায় বাস ও মিনিবাসের চলাচল ছিল কম। রাস্তাঘাট ছিল রিকশার দখলে। প্রধান সড়কে দোকানপাট তেমন একটা খোলা না থাকলেও নগরীর অলিগলির দোকানপাট খোলা ছিল। মতিঝিল ব্যাংকপাড়া ও সচিবালয়ে উপস্থিতি নিত্যদিনের তুলনায় কম ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে শুরু করে সব ব্যাংকের ফটক বন্ধ করে লেনদেন কার্যক্রম চালাতে দেখা গেছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর সামনে ছিল পুলিশি টহল। তব ব্যাংকগুলোতে গ্রাহক ছিল কম। সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়গুলোতে কার্যক্রম চললেও দর্শনার্থী ছিল অনেক কম। বেশির ভাগ কর্মকর্তা সকাল ৯টার আগেই অফিসে উপস্থিত হন। কর্মচারীরা বাসে, রিকশায় আবার অনেকে হেঁটে সচিবালয়ে উপস্থিত হন। সায়েদাবাদ, গাবতলী ও মহাখালী থেকে দূরপাল্লার বাস-মিনিবাস ছেড়েছে হাতে গোনা কয়েকটি। রেল ও বিমান চলাচল ছিল স্বাভাবিক। সদরঘাট থেকে ঠিকভাবেই লঞ্চ চলাচল করেছে, তবে যাত্রী ছিল কম। পণ্য ওঠানো-নামানোও ছিল অনেকাংশে কম।
অবরুদ্ধ বিএনপি কার্যালয় : বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সকাল ৯টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের একজন হাকিম অবস্থান নেন। পুলিশি ব্যারিকেডের ফলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা দিনভর পল্টনে দলীয় কার্যালয়ের ভেতরেই অবস্থান করেন। পুলিশ আশপাশের এলাকা থেকে বিএনপির কর্মী সন্দেহে দিনভর অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে আটক করে। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, মহিলা দলের সভাপতি নূরে আরা সাফা, যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুস সালাম আজাদ, কৃষক দলের শাহজাহান মিয়া সম্রাট প্রমুখ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ভোর থেকেই বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান নেন। সকাল ৬টার পর মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দিনের প্রথম মিছিল বের করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের সঙ্গে পুলিশের বাগ্বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। বাগ্বিতণ্ডা থামাতে গিয়ে মির্জা ফখরুল মাটিতে পড়ে যান এবং ডান হাতে ব্যথা পান। পুলিশ এ সময় সেখান থেকে আট নেতা-কর্মীকে আটক করে।
সাংবাদিকদের লাঠিপেটা : আটকের সময় নূরে আরা সাফা রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে সাংবাদিকরা তাঁর ছবি তুলতে যান। একপর্যায়ে পুলিশ সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। এ সময় পুলিশের লাঠির আঘাতে কালের কণ্ঠের বিশেষ ফটো সাংবাদিক রফিকুর রহমান রেকু, চ্যানেল আইয়ের মঞ্জুরুল ইসলাম বাবু, এটিএন বাংলার মহসিন, এনটিভির অজিত আইস তাপস, দেশ টিভির শিবলী আহত হন। এ ঘটনায় সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপি অফিসের সামনের সড়কে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন। সকাল সাড়ে ১১টায় ডিবির এডিসি মোল্লা নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালালেও তাতে সফল হননি। পরে মতিঝিল জোনের ডিসি আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে দুঃখ প্রকাশ এবং দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির আশ্বাস দিলে সাংবাদিকরা রাস্তার ওপর থেকে সরে আসেন।
জামায়াতের তৎপরতা : জামায়াতের ঢাকা মহানগরের সহকারী সেক্রেটারি নূরুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা সেনাকল্যাণ ভবন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিরপুরের সাড়ে ১১ নম্বর এলাকায় সকালে নেতা-কর্মীরা মিছিলের চেষ্টা করলে পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রত্যেককে এক মাস করে কারাদণ্ড দেন। শ্যামপুরের মিছিল যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা থেকে শুরু করে ধোলাইরপাড় যাওয়ার পথে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এতে জামায়াত-শিবিরের ৯ কর্মী আহত হন। যুবলীগকর্মীরা দুই জামায়াতকর্মীকে ধরে পুলিশে তুলে দেন। পল্টনের কালভার্ট রোডের মিছিলে নেতৃত্ব দেন থানা আমির অধ্যাপক মোকাররম হোসাইন। এ ছাড়া গুলিস্তান, হাজারীবাগ, মহাখালী, গুলশান, রমনা, খিলগাঁও, আদাবর, মোহাম্মদপুর ও সূত্রাপুরে রাস্তায় বিক্ষোভ মিছিলের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন তাঁরা।
বিকেলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, 'জামায়াতের ১৮ নেতা-কর্মীকে শান্তিপূর্ণ মিছিল থেকে ধরে অন্যায়ভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত শাস্তি দিয়েছেন। সরকার ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও পুলিশকে আমাদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে। সারা দেশে আমাদের ৬৯ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।'
সম্মিলিত ওলামা-মাশায়েখ পরিষদ : এদিকে শুধু রবিবারের হরতালের সমর্থনে বাংলামোটর থেকে সম্মিলিত ওলামা-মাশায়েখ পরিষদের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন রাব্বানির নেতৃত্বে ২০ জনের একটি মিছিল মূল সড়কে ওঠার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশের হাতে আটক হন ওলামা-মাশায়েখ পরিষদের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মোহাম্মদ মহিউদ্দিন রাব্বানি। পরে তাঁদের কলাবাগান থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে থেকে রবিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেয় সংগঠনটি।
হরতালবিরোধীরা রাজপথে : মিরপুরে রাজপথ ছিল আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠন ও পুলিশের দখলে। আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা মোটরসাইকেল নিয়ে হরতালবিরোধী মিছিল বের করেন। তাঁদের মিছিল চলাকালে মিরপুর ১ নম্বর সেকশন, মুক্ত বাংলা শপিং কমপ্লেঙ্, গ্রামীণফোন সার্ভিস সেন্টার ও চায়নিজ রেস্টুরেন্টের সামনে পর পর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এদিকে হরতাল শুরুর আগেই ভোর ৫টার দিকে হরতাল সমর্থনকারীরা মিরপুর ১৩ ও ১৪ নম্বর সেকশনের হারম্যান মেইনার স্কুলের সামনে দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর একটি কৃষি ব্যাংকের স্টাফ বাস, অন্যটি যাত্রীবাহী বাস (মাইলাইন পরিবহন)। এদিকে হরতাল সমর্থনকারী জামায়াত নেতারা পল্লবী সাড়ে ১১ নম্বর সেকশনের অণিক প্লাজার সামনে থেকে মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ ছাত্রদলের শামীম আহমেদসহ কয়েকজনকে আটক করে।
চার আইনজীবী আটক : হরতালের কারণে গতকাল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বসলেও হাইকোর্ট বসেনি। আপিল বিভাগ মাত্র একটি মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের বক্তব্য শোনেন। তবে বিবাদীপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। এ ছাড়া আর কোনো মামলার আইনজীবী না থাকায় একটিমাত্র মামলায় আদেশ দিয়ে প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনসহ আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতি এজলাস ত্যাগ করেন। এদিকে দুপুর ১২টা পাঁচ মিনিটে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সারোয়ার জাহান বাদশা অটোরিকশায় করে সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে ঢুকতে গেলে হরতাল সমর্থক আইনজীবীরা বাধা দেন। এ সময় পুলিশ এগিয়ে এলে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের সঙ্গে পুলিশের হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে বিএনপি-জামায়াতে ইসলামী সমর্থক আইনজীবীরা পুলিশকে সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে বের করে দিয়ে ফটক আটকে দেন। বাইরে পুলিশ ও ভেতরে আইনজীবীরা মুখোমুখি অবস্থান নেন। পরে চার আইনজীবী অ্যাডভোকেট নয়ন বাঙালি, শামীম আকন্দ, শরীফ আহমেদ ও দেলোয়ার হোসেনকে আটক করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া ও অ্যাডভোকেট মহসীন মিয়ার নেতৃত্বে হরতালের সমর্থনে জজ কোর্টের ভেতরে পৃথক মিছিল বের করার চেষ্টাকালে পুলিশের বাধার কারণে তা ব্যর্থ হয়। পরে তাঁরা জজকোর্টের ভেতরে মিছিল-সমাবেশ করেন। সাড়ে ১০টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হরতালের বিপক্ষে একটি মিছিল বের করেন। এ ছাড়া হরতালের বিপক্ষে সদরঘাট শ্রমিক লীগ এবং কবি নজরুল কলেজ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রলীগ পৃথকভাবে মিছিল-সমাবেশ করে।
এদিকে দুপুর ১টার দিকে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এ সময় ককটেলের বিকট শব্দে একজন পথচারী ঘটনাস্থলে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তাঁকে ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ক্লাস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।