Friday, July 15, 2011

বিদ্রোহীরা দখল নিলে ত্রিপোলি উড়িয়ে দেবেন গাদ্দাফি

লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি ‘আত্মঘাতী পরিকল্পনা’ নিয়েছেন। বিদ্রোহীরা রাজধানী ত্রিপোলি দখল করে নিলে তিনি এ শহর উড়িয়ে দেবেন। লিবিয়ায় নিযুক্ত রাশিয়ার বিশেষ দূতের বরাত দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার রাশিয়ার একটি সংবাদপত্রে এ খবর প্রকাশিত হয়।

সমঝোতার মাধ্যমে গাদ্দাফিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া ও বিদ্রোহীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আজ শুক্রবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আলোচনায় বসছেন।
লিবিয়ায় নিযুক্ত রাশিয়ার বিশেষ দূত মিখাইল মারগেলভ রাশিয়ার ইজভেস্তিয়া পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমার ধারণা, গাদ্দাফি সরকারের আত্মঘাতী পরিকল্পনা রয়েছে। এখনো তাদের হাতে প্রচুর ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুদ রয়েছে।’ তিনি বলেন, গাদ্দাফির সেনারা এখনো ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপণযোগ্য একটি ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করেনি। তাদের ট্যাংকের জন্য রাখা গোলা ও রাইফেলের গুলি ফুরিয়ে যেতে পারে। কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকের প্রচুর মজুদ রয়েছে।
গত ১৬ জুন ত্রিপোলিতে লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাগদাদি আল মাহমুদির সঙ্গে বৈঠক করেন মারগেলভ। তবে তিনি গাদ্দাফির সঙ্গে দেখা করতে পারেননি।
আজ ইস্তাম্বুলে লিবিয়ার বিষয়ে আলোচনায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন, ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঁলা জুপ্পে, ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হগ ও ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঙ্কো ফ্রাত্তিনি অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। এতে সামরিক জোট ন্যাটোর মহাসচিব আন্দ্রেস ফগ রাসমুসেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাস্টন ও আরব লিগের প্রধান নাবিল আল আরবিরও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এই আলোচনায় অংশ নিতে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে রাশিয়া ও চীনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত নয়।
তুরস্কের একজন কূটনীতিক জানান, ইস্তাম্বুলের আলোচনায় লিবিয়ায় নিযুক্ত জাতিসংঘের দূত আবদুল ইলাহ সম্প্রতি তাঁর ত্রিপোলি ও বেনগাজি সফরের বিষয় তুলে ধরবেন। এ ছাড়া মুসলমানদের জন্য আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে লিবিয়ায় মানবিক সহায়তা বাড়ানো ও বিদ্রোহীদের সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।
লিবিয়ার বিদ্রোহীদের গঠিত অন্তর্বর্তী জাতীয় পরিষদের (টিএনসি) জ্যেষ্ঠ সদস্য মাহমুদ জিবরিল ইস্তাম্বুলের আলোচনায় যোগ দেবেন। তিনি বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অংশ নেবেন।
ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাউরিজিও মাসারি বলেন, জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় লিবিয়া পরিস্থিতির রাজনৈতিক সমাধানের পরিকল্পনা এগিয়ে চলছে।
গত মঙ্গলবার ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঁলা জুপ্পে বলেন, ‘আমরা লিবিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তাঁরা আমাদের বলেছেন, গাদ্দাফি ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন। সে বিষয় নিয়ে আলোচনা হোক।’

খরায় ধুঁকছে সোমালিয়া, অগণিত মৃত্যুর আশঙ্কা

আফ্রিকার পূর্বাঞ্চলে খরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অগণিত মানুষ মারা যেতে পারে। ব্রিটেনের টেলিভিশন চ্যানেল 'চ্যানেল ফোর'কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সোমালিয়ায় কর্মরত এক ত্রাণকর্মী এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। জেন্স ওপারম্যান নামের এ কর্মী শিগগিরই সেখানে আন্তর্জাতিক সাহায্য বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

আফ্রিকার পূর্বাঞ্চলের হর্ন অব আফ্রিকাভুক্ত দেশগুলোতে গত ৬০ বছরের মধ্যে ভয়াবহতম খরা দেখা দিয়েছে। সোমালিয়া, কেনিয়া, ইথিওপিয়া ও জিবুতি খরার আক্রমণে পড়েছে। তবে সোমালিয়ার পরিস্থিতি সবচেয়ে মারাত্মক। খাদ্য ও পানির আশায় লাখ লাখ লোক সেখানে ছোটাছুটি করছে। সোমালিয়ায় 'অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট হাঙ্গার' নামের দাতব্য সংস্থার প্রধান হিসেবে কাজ করছেন ওপারম্যান। চ্যানেল ফোর নিউজকে তিনি জানান, 'সোমালিয়ার পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। মানুষ এখানে অকল্পনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।' সোমালিয়ায় প্রায় ২৮ লাখ লোকের জরুরি মানবিক সাহায্যের প্রয়োজন বলে জানান তিনি। দেশটিতে গড়ে প্রতি তিন শিশুর একটিই অনাহারে দিন কাটাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ওপারম্যান জানান, 'খরা-আক্রান্ত এলাকার ত্রাণকর্মীরা মানুষকে সাহায্য করার ব্যাপারে হিমশিম খাচ্ছে। আমাদের কাছে আসা শিশু ও পরিবারগুলো মানসিক ও শারীরিকভাবে পুরোপুরি বিপর্যস্ত। অনেকেই মারাত্মকভাবে অসুস্থ বা আহত। অনেক লোককেই সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে অনাহারে থাকতে হয়।
ত্রাণ শিবিরগুলোতে আসা লোকদের প্রাণ বাঁচানোই দুষ্কর হয়ে পড়েছে।' সোমালিয়ার দক্ষিণাঞ্চল ও প্রত্যন্ত গ্রামগুলোর খরা পরিস্থিতি মারাত্মক এবং শিশু, গর্ভবতী নারী ও বয়স্ক লোকরাই এর সবচেয়ে বড় শিকার বলে জানান ওপারম্যান।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার প্রধান আন্তোনিও গুতিয়েরেস আফ্রিকার খরাকে 'বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবীয় বিপর্যয়' বলে উল্লেখ করেন গত সোমবার। সোমালিয়ার জঙ্গিগোষ্ঠী আল-শাবাব তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় বিদেশি ত্রাণকর্মী প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অধিকসংখ্যক সাহায্য সংস্থাকে সোমালিয়ায় যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গুতিয়েরেস।
আন্তর্জাতিক সাহায্যের অপরিহার্যতা উল্লেখ করে জেন্স ওপারম্যান বলেন, 'এই পরিস্থিতিকে বিবেচনায় না নিলে আমার আশঙ্কার হচ্ছে, অকল্পনীয় মাত্রায় মৃত্যুর ঘটনা দেখতে হবে আমাদের।'

পাখিঃ- পাহাড়ের নীলপরী by আলম শাইন

আরব্য উপন্যাসে 'কোকাফ' শহর নামের একটি জায়গার বর্ণনা আছে। শহরটির অবস্থান ঠিক কোন দেশে সে সম্পর্কে কোনো কিছুই জানা যায়নি। তবে লেখক ইশারা-ইঙ্গিতে বুঝিয়েছেন, এটি মর্ত্যলোকের কোনো শহর নয়। ওখানে সাধারণ মানুষ স্বেচ্ছায় যেতে পারে না, যেতে হলে একটা মাধ্যম লাগে। আর সেই মাধ্যমটি হচ্ছে পরী, (ওটা নাকি পরীরাজ্য।

ওখানে শুধু লালপরী, নীলপরীদের বাস) অর্থাৎ লেখক স্পষ্ট বুঝিয়েছেন, পরীদের পেতে হলে যেতে হবে কোকাফ শহরে। তাঁর হয়তো জানা ছিল না, নীলপরীদের বাস বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলেও আছে। জানা থাকলে নিশ্চয়ই সেটা তুলে ধরতে তিনি কৃপণতা করতেন না।
একেবারেই সত্যি কথা, এ দেশের পাহাড়ি অঞ্চলে বিশেষ করে কঙ্বাজার, হিমছড়ি, টেকনাফের অরণ্যে নীলপরীদের বিচরণ লক্ষ করা যায়। এরা কোনো কল্পলোকের পরী নয়, এরা হচ্ছে 'আইরেনিদি' গোত্রের একধরনের অপ্সরী পাখি। ইংরেজি নাম 'এশিয়ান ফেইরি ব্লুবার্ড'। এই পাখিরা বাংলাদেশের স্থায়ী বাসিন্দা হলেও এদের কোনো বাংলা নাম নেই। বিষয়টি মাথায় এনে বিশিষ্ট পাখিপ্রেমিক অজয় হোম ওদের নাম রেখেছেন নীলপরী। সেই থেকে এ পাখি নীলপরী নামেই পরিচিত। তবে অজয় হোমের দেওয়া নামের সঙ্গে যথার্থ মিল রয়েছে নীলপরী পাখির। যেমনি রূপ তেমনি গানের গলা। মৃদু শিস বাজিয়ে মিষ্টি সুরে গান গায় এরা। গানের ভাষা কিছুটা দুর্বোধ্য হলেও শুনতে বেশ লাগে। অন্যদিকে ওদের রূপের যে ঝলকানি, তা দেখলে চোখে ধাঁধা লেগে যায়। তখন দেখে মনে হয়, সত্যি বুঝি ওরা কল্পলোক থেকে মর্ত্যে বিচরণ করতে এসেছে।
নীলপরীর পুরো শরীরটা নীল পালকে আবৃত নয়। ঘাড়ের নিচ থেকে পিঠ ধরে লেজ পর্যন্ত নীলচে বর্ণের। ঠোঁট ও পা তদ্রূপ। চোখ ফিকে লাল। লম্বায় আট থেকে দশ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। পুরো শরীরটা বেশ তাগড়া মনে হয়। ছেলে-মেয়ে দেখতে একই রকম। সূর্যের আলো নীলপরী পাখির পিঠে পড়লে নীলাভ দ্যুতি ঠিকরে বের হয়। তখন যে কেউ দেখলে ওদের প্রেমে পড়তে বাধ্য। খেয়ে-না খেয়ে জঙ্গলে পড়ে থাকতে চাইবেন। আর তিনি যদি পাখিপ্রেমিক হয়ে থাকেন, তাহলে তো কথাই নেই।
নীলপরী মোটামুটি সামাজিক পাখি। গাছে গাছেই এদের বিচরণ। বুনো ফল, ফুলের মধু এদের প্রিয়। মাটিতে খুব একটা নামে না এরা। শুধু জলপানের তাগিদ অনুভব করলে তবে নিচে নেমে আসে। একসঙ্গে তখন আরো একটি কাজ সেরে নেয়। জলপান শেষে গোসলাদিও সেরে নেয় ওরা। নীলপরীদের প্রজনন মৌসুম হচ্ছে মার্চ থেকে এপ্রিল। এ সময় এরা
তুলনামূলক ছায়াযুক্ত জায়গায় বাসা বাঁধে। সরু কাঠি, গাছের শুকনো লতাপাতা এদের বাসা তৈরির উপকরণ। বেশ সুন্দর বাসা বাঁধতে পারে এরা। বাসা তৈরি শেষে দুই দিন বিরতি দিয়ে দুটি মাত্র ডিম পাড়ে। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৮ থেকে ২০ দিন। বাচ্চারা স্বাবলম্বী না হওয়া পর্যন্ত মা-বাবার সঙ্গে থাকে।

দুর্বল গোয়েন্দাব্যবস্থার কারণে ভারত ঝুঁকির মধ্যে থাকবে

সন্ত্রাসবাদবিরোধী নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন না আনা পর্যন্ত ভারত জঙ্গি হামলার সহজ লক্ষ্যবস্তু থাকবে; যে নীতিতে কার্যকর গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা এ কথা বলেন।

বিশ্লেষকেরা বলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পদ্ধতি এখনো দুর্ভাগ্যজনকভাবে পরিপূর্ণ নয়।
গত বুধবার ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে তিনটি বিস্ফোরণে ১৭ জন নিহত হন। আহত হন আরও কমপক্ষে ১৩১ জন। আহত ব্যক্তিদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নয়াদিল্লির ইনস্টিটিউট অব কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্টের নির্বাহী পরিচালক আজাই সাহনি বলেন, ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলার পর নেওয়া নতুন পদক্ষেপ পুলিশব্যবস্থা ও তৃণমূল পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রধান দুর্বলতার ‘একটি ক্ষুদ্র অংশ’ দূর করেছে মাত্র।
সাহনি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আপনি অবশ্যই সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে শতভাগ নিশ্চয়তা পাবেন না; তবে এটা বলা যায়, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমাদের প্রচণ্ড দুর্বলতা রয়েছে।’ তিনি বলেন, ভারতের পুলিশ বাহিনী অনেক ক্ষেত্রে ‘অনুপযুক্ত’। সাহনি বলেন, পুলিশের ফরেনসিক সামর্থ্য সামান্য বা একেবারেই নেই। গোয়েন্দা প্রশিক্ষণের অবস্থাও একই রকম।
দেশে কার্যকর জাতীয় অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদবিষয়ক ডেটাবেস না থাকার কথা উল্লেখ করে সাহনি বলেন, সরকারগুলো অতীত থেকে শিক্ষা নিতে দৃশ্যমানভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা কয়েক দশক ধরে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়ছি। কিন্তু পুলিশের জন্য সন্ত্রাসবাদবিরোধ বিষয়ে কোর্স চালু করা হয়েছে ২০১০ সালে।’
দিল্লিভিত্তিক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ উইলসন জন বলেন, সরকার জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর জন্য অনেক বেশি জায়গা খালি রেখেছে।

থেমে নেই মুম্বাইয়ের জীবন

জীবন থেমে থাকে না। আপন গতিতেই তার পথচলা। গতকালও মুম্বাইয়ের আকাশে সূর্য উঠেছে। আলোকিত হয়েছে সেখানকার অলিগলি, রাজপথ। দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। দিনভর কোলাহল ছিল ফুটপাতে। ট্রেন চলেছে অন্যান্য দিনের মতোই।

সিরিজ বোমা হামলার এক দিন পরই মুম্বাইয়ের জীবনযাত্রা ছিল এমনই। অন্য ১০ দিনের মতোই মুম্বাইবাসী স্বাভাবিক থাকায় স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরমও মুম্বাইবাসীর দৃঢ় মনোবলের প্রশংসা করেছেন।
মুম্বাইয়ের আবাসন ব্যবসায়ী ভিনোদ হিরানান্দিনি বলেছেন, ‘জীবন তাঁর স্বাভাবিক গতিতেই চলবে। যারা দিন আনে দিন খায়, জীবিকার তাগিদে তাদের ঘরের বাইরে যেতেই হয়। জীবনের জন্য এটা (মুম্বাই) খুব কঠিন একটা জায়গা।’
অবশ্য মুম্বাইয়ের জন্য এ রূঢ় অভিজ্ঞতা নতুন নয়। এর আগেও বহুবার রক্তাক্ত হয়েছে এই নগর। স্বজন হারানোর বেদনায় বারবার কেঁদেছে মুম্বাইবাসী। তবে সন্ত্রাসীদের এ ধরনের হামলার বিষয়টি অনেকটা নিয়তি বলে ধরে নিয়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা।
টাইমস অব ইন্ডিয়া এ হামলার ঘটনাকে বর্ণনা করেছে এভাবে—‘আবারও’। ট্যাবলয়েড মুম্বাই মিরর শিরোনাম করেছে ‘আবারও হামলা’ বলে। আরেক ট্যাবলয়েড মিড-ডে বলেছে, ‘কোনো শিক্ষাই হলো না, কখন ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ হবে।’
এর আগে মুম্বাই সর্বশেষ সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয় ২০০৮ সালে। প্রায় ১০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তিনটি বিলাসবহুল হোটেল, রেলস্টেশন, রেস্তোরাঁ ও ইহুদিদের সংস্কৃতি কেন্দ্রে হামলা চালায়। এতে ১৬৬ জন নিহত ও তিন শতাধিক আহত হয়।
ওই হামলার ক্ষতচিহ্ন এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে ১৩ বছরের কিশোরী দেবিকা। বুধবারের হামলার ভয়াবহতা টেলিভিশনে দেখামাত্র সে তার বাবা নটবরলাল রতোয়ানের কাছে জানতে চায়, ‘সরকার কেন সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’
জবাবে নটবরলাল রতোয়ান বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা মুম্বাই শহর ও সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। আমাদের রাজনীতিবিদেরাই এর জন্য দায়ী। দরিদ্র-নিরীহ লোকজনের মৃত্যুতে তাদের তো কিছু যায়-আসে না।’
ভয়াবহ হামলার সেই বিভীষিকাময় স্মৃতি ভুলতে না ভুলতেই বুধবার আবারও কেঁপে উঠল মুম্বাই। তিনটি পৃথক বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত ১৭ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছে।
মহারাষ্ট্রের গণপূর্তমন্ত্রী চাগান ভূজপাল বলেছেন, সন্ত্রাসীরা হামলার জন্য প্রধান লক্ষ্যস্থল হিসেবে মুম্বাইকে বেছে নিয়েছে। এখানে হামলা চালালে তা পুরো জাতিকে কাঁপিয়ে দেবে, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিশ্বেরও মনোযোগ কাড়তে পারবে। আর সন্ত্রাসীরা সেটাই চাইছে।