Saturday, May 12, 2012

মরে যাচ্ছে মাতামুহুরী

মাতামুহুরীর এখন মরণদশা। অবৈধভাবে পাহাড় খনন করে নির্বিচারে পাথর আহরণ ও গাছ কাটাসহ গাছের শিকড় উত্তোলন করায় পাহাড় ধসে পড়ছে।

বৃষ্টির সময় পাহাড়ের মাটি পানির সঙ্গে মাতামুহুরী নদীতে এসে শাখা খাল ও ছড়াসহ নিম্নাঞ্চল ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এ মৌসুমে তাই মাতামুহুরীর অবস্থা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে স্থানীরা। গত সপ্তাহে কক্সবাজারের চকরিয়ায় সরেজমিন এমন চিত্র দেখা গেছে।
চকরিয়া উপজেলার ঘুনিয়া, প্রপার কাকারা, চকরিয়া পৌরসভার কোচপাড়া, উত্তর লক্ষ্যারচর, পহরচাঁদা অংশে আগামী বর্ষায় ভয়াবহ ভাঙনের আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। চকরিয়ার পৌর মেয়র নুরুল ইসলাম হায়দার সমকালকে বলেন, গত বছর বন্যায় কোচপাড়া অংশের শহর রক্ষা বাঁধ ভেঙে গেলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড এখন পর্যন্ত তা সংস্কারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আসছে বর্ষায় এ বাঁধের ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তখন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক রক্ষা করাও কঠিন হবে।
এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ আবদুচ সাত্তার সমকালকে বলেন, কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় নদী খননের কোনো ব্যবস্থা নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ড্রেজিং বিভাগ নদী খননের দিকটি দেখে থাকে। তিনি দাবি করেন, এ নদী জরুরি খনন করা দরকার। অন্যথায় প্রতি বছর মাতামুহুরী নদীর দু'পারের নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের শিকার হবে। এ ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙনরোধে যেটুকু কাজ করা দরকার পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে তা করতে পারছে না। ফলে মাতামুহুরী নদীর ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না।
অভিযোগ আছে, চকরিয়া, বান্দরবানের লামা ও আলীকদম উপজেলার কয়েক লাখ একর বনজসম্পদ সমৃদ্ধ পাহাড়ের বৃক্ষরাজি উজাড় করেছে এক শ্রেণীর বনদস্যু। কয়েক যুগ ধরে পাল্লা দিয়ে নির্বিচারে বৃক্ষ উজাড় ও পাহাড় খনন করে পাথর উত্তোলন করায় এ তিন উপজেলার সিংহভাগ বৃক্ষসমৃদ্ধ পাহাড় এখন ন্যাড়া পাহাড়ে পরিণত হওয়ায় মাটি ধসে পড়ছে। এ অবস্থায় প্রতি বছর এসব পাহাড়ের মাটি প্রবল বর্ষণে পানিতে মিশে পলি আকারে ভেসে এসে একসময়ের আলোচিত প্রমত্তা মাতামুহুরীসহ অর্ধশতাধিক শাখা খাল ও ছড়া ভরাট হয়ে যেমন নাব্যতা হারাচ্ছে, তেমনি কোনো কোনো ছড়া চিরতরে মরেও যাচ্ছে।
খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পারমিট নিয়ে বর্তমানে লামা আলীকদমের বিভিন্ন মৌজায় পাথর আহরণে চিরুনি অভিযান চলছে। বিগত সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে পাথর আহরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও বর্তমানে সে আদেশ প্রত্যাহার করায় নির্বিচারে পাথর আহরণ চলছে। এভাবে চলতে থাকলে লামা আলীকদমের সিংহভাগ পাহাড়ের অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন পরিবেশবাদীরা।
চকরিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার হোসেন বলেন, মাতামুহুরী চকরিয়া উপজেলার কৃষি অর্থনীতির একমাত্র চালিকা শক্তি। এ নদীর সঙ্গে জড়িয়ে আছে চকরিয়ার কৃষক ও জেলেদের জীবন-জীবিকা।
নানা কারণে বর্তমানে মাতামুহুরী ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে একসময় এ নদীর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে।
দীর্ঘদিন ধরে মাতামুহুরী নদী ভরাট হতে থাকায় সামান্য বন্যাতেই লোকালয় তলিয়ে যাচ্ছে। বন্যায় এ নদীর পানি উপচে চকরিয়া, লামা ও আলীকদমের সিংহভাগ লোকালয় তলিয়ে যাচ্ছে। চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সমকালকে বলেন, মাতামুহুরী নদী চকরিয়ার সম্পদ ও শক্তি। প্রতি বছর ভরাট হতে হতে এ নদীর নাব্যতা ব্যাপক হ্রাস পেয়েছে। প্রতি বছর বন্যার সময় নদীর পানি লোকালয়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধনসহ নদীভাঙন সৃষ্টি করছে। এ অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে হলে মাতামুহুরী নদী ড্রেজিং করা অত্যন্ত জরুরি। এ প্রস্তাব উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

Friday, May 11, 2012

সরকারি দল নানা সমস্যা সৃষ্টি করছেঃ হাসিনা আহমদ

কক্সবাজারের দুই নারী এমপির রাজনীতির শুরু শ্বশুর বাড়িতেই! অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমদ রাজনীতিতে এসেছেন শ্বশুর বাড়িতে আসার পর। কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সিকদার পাড়া গ্রামের শিক্ষাবিদ মরহুম মৌলভী সাঈদুল হকের বড়ো সন্তান এবং বিএনপির বর্তমান কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী আহমদ তাঁর স্বামী।

রাজধানী ঢাকার পুরানো পল্টন এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হাসিনার জন্ম ১৯৬৫ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (অনার্স) সহ এল এল এম ডিগ্রি লাভ করেন। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়ের করা দুর্নীতির মামলায় স্বামী সালাহউদ্দিন আহমদ কারাগারে থাকায় কক্সবাজারের চকরিয়া-পেকুয়া আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সরাসরি ভোটযুদ্ধে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। এর আগে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে তাঁর স্বামী সালাহউদ্দিন আহমদ এ আসনে এমপি নির্বাচিত হন। হাসিনা আহমদ বৃহত্তর চট্টগ্রামের প্রথম নির্বাচিত মহিলা এমপি। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য।
তিনি বলেন, 'এলাকায় আমি কম আসি বলে আমার বিরুদ্ধে যে প্রচারণা তা সাধারণ মানুষের নয়, আমার প্রতিপক্ষের। যা সত্যি নয়। আমি হয়তোবা প্রতি মাসে আসি না। তবে জাতীয় দিবসসহ দলীয় কর্মসূচি এলাকায় এসে পালনের চেষ্টা করি।'
এলাকায় জনগণের সেবা দিতে গিয়ে সরকারি দলের কোনো বাধার মুখে পড়েন কিনা?-প্রশ্নের জবাবে হাসিনা আহমদ বলেন, 'এরকম সরাসরি বাধার মুখে না পড়লেও আমি যাতে এলাকায় না আসি সেরকম নানাভাবে আমাকে বাধার সৃষ্টি করা হয়।'
বিরোধী দলীয় এমপি হিসেবে সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দের ব্যাপারে তিনি বলেন, 'উন্নয়ন বরাদ্দ বলতে টিআর ও কাবিখা প্রকল্প ছাড়া আর কিছুই দেওয়া হয় না। ফলে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প আমার নির্বাচনী এলাকায় বরাদ্দের অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।' এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, কাটাফাড়ি সেতু, উজানটিয়া-করিয়ারদিয়া সেতু, উজানটিয়া-মাতারবাড়ী সেতু, সাহারবিল সেতুসহ বেশ কিছু বড় বড় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। তাছাড়া গত কয়েক বর্ষা ও বন্যায় ক্ষতবিক্ষত সড়কগুলোও সংস্কার করা হয়নি। বর্তমান সরকারের গত তিন অর্থ বছরে প্রাপ্ত পেকুয়া-চকরিয়ার ১৩৭৮টি প্রতিষ্ঠানে ১২৮৭.৫ মেট্রিক টন চাল ও ৭৫০ মেট্রিক টন গম বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে চকরিয়া পেকুয়া আসনে। এ বরাদ্দ তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে পেয়েছেন। তিনি জানান, তবে দুটি উপজেলার জন্য এ বরাদ্দ যথেষ্ট নয়। টিআর, কাবিখা ও টাবিকা ছাড়া অন্য কোন উন্নয়ন বরাদ্দ এ পর্যন্ত চকরিয়া-পেকুয়া আসনের এমপি হাসিনা আহমদকে প্রদান করা হয়নি।
তার আসনে সরকার দলীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত মহিলা এমপি সম্পর্কে হাসিনা আহমদ বলেন, 'নির্বাচিত বিরোধী দলীয় এমপির আসনে একজন দলীয় অনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে দায়িত্ব দিলেও তিনি এ পর্যন্ত কোনো উন্নয়ন করতে পারেননি।' এমনকি পেকুয়া-চকরিয়ার কোথাও একটি ইটও লাগানো সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ উত্থাপন করেন তিনি। বরং এলাকায় সন্ত্রাসের মদদ দিয়ে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি করা হচ্ছে বলে তার অভিযোগ। তিনি বলেন, 'বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে চকরিয়া-পেকুয়ায় বিএনপির শত শত নেতা-কর্মীকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।'

সুযোগ সন্ধানীরা মাঝে মাঝে বাধার কারণ হয়ে দাঁড়ানঃ এথিন রাখাইন

শ্বশুর বাড়ি কক্সবাজারে এসে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন অধ্যাপিকা এথিন রাখাইন। শহরের চাউল বাজার সড়কের বাসিন্দা এবং কক্সবাজার সিটি কলেজের অধ্যক্ষ ক্য থিং অং হচ্ছেন তার স্বামী।

দেশের উপকূলীয় জেলা বরগুনার আমতলী উপজেলার আগাঠাকুর পাড়ায় ১৯৬২ সালে জন্ম তাঁর। ১৯৮৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ (দর্শন) ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। ১৯৯১ সালে কক্সবাজার মহিলা কলেজে তিনি যোগদান করেন অধ্যাপনায়।
কলেজ জীবনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন অধ্যাপিকা এথিন। বর্তমানে কক্সবাজার
জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। সপ্তম জাতীয় সংসদেও তিনি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য। সপ্তম সংসদে মহিলা ও শিশু বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন এবং বর্তমান নবম সংসদে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সদস্য তিনি।
তিনি বলেন, 'প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছি বার বার। তবে পরিবার এবং সমাজ থেকে কখনও বাধার সম্মূখীন হইনি। এলাকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে যথেষ্ট সমর্থন পেয়ে এসেছি।'
অধ্যাপিকা এথিন বলেন, 'আসলে রাজনীতি যারা করেন, তারা সকলে সচেতন মানুষ। আমি মনে করি রাজনীতিবিদদের উদ্দেশ্যই হলো সমাজ এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়ন করা। এক্ষেত্রে পথ ও মতের ভিন্নতা থাকতে পারে। কিন্তু উদ্দেশ্য হবে একই। তাই আমি প্রকৃত রাজনীতি যারা করেন, সেটা যে পক্ষই হোক- তাদের পক্ষ থেকে প্রত্যাশিত ব্যবহারই পেয়েছি।'
এলাকার উন্নয়ন কাজ করতে গিয়ে কোনো বাধার সম্মুখীন হয়েছেন কিনা? প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'উন্নয়ন করতে গিয়ে বাধা পাবো কেন? তবে হ্যাঁ, যারা সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন অর্থাৎ ঘন ঘন রঙ বদলান এবং মৌসুমি রাজনীতিবিদ সেজে জনদরদী হয়ে যান, তাদের নিকট থেকে মাঝে মধ্যে বাধা পাই। কারণ তাতে তাদের উদ্দেশ্যে ব্যাঘাত ঘটে থাকে।'
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ''সুযোগ সন্ধানীদের চিনে ফেলেছি এবং তাদের কৌশলে এড়িয়ে যেতেও তেমন কষ্ট হয় না।' উন্নয়ন কাজের ব্যাপারে এলাকার গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও বেড়িবাঁধসমূহ উন্নয়ন করে চলেছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে অবদান রাখছি। কক্সবাজার সিটি কলেজের অনার্স কোর্স প্রবর্তন এবং অবকাঠামো উন্নয়ন করেছি। এলাকার মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জা উন্নয়নে অবদান রাখছি। সর্বোপরি কক্সবাজার সরকারি মেডিক্যাল কলেজের নিজস্ব ক্যাম্পাস নির্মাণ কাজেও অবদান রয়েছে আমার।'
কক্সবাজার দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থান তাই এখানকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ কী মনে করেন?-এ প্রশ্নের জবাবে রাথাইন বলেন, 'কক্সবাজার যেহেতু দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র তাই এখানকার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে উন্নীত করাই হবে অন্যতম প্রধান কাজ। কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন সমপ্রসারণ করা হলে পর্যটনের প্রসার হবে আরো ব্যাপক।'

রোহিঙ্গাদের জন্য বিশেষ ফরমঃ চকরিয়ায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ শুরু

উপজেলার ১৮ ইউনিয়ন ও এক পৌরসভায় শুরু হয়েছে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ। তথ্য সংগ্রহকারীরা ৩ মে থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন।

তথ্য সংগ্রহের কাজ চলবে আগামী ১২ মে পর্যন্ত। ইতিমধ্যে উপজেলাজুড়ে ব্যাপক মাইকিংও করা হয়েছে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হওয়ার বিষয়ে। তবে এবারের হালনাগাদ ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা নাগরিকেরা যাতে অন্তর্ভুক্ত হতে না পারে সেজন্য নির্বাচন কমিশন বেশকিছু শর্ত আরোপ করেছে।
উপজেলায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম সমন্বয়কারী চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার জাকির হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'ভোটার তালিকায় যাতে রোহিঙ্গা নাগরিকেরা কৌশলে অন্তর্ভুক্ত হতে না পারে সেজন্য তথ্য সংগ্রহকারীদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।'
তিনি জানান, নতুন করে ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে মা-বাবার ভোটার আইডি কার্ড, ভূমি দলিল, জায়গার খতিয়ান, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও জন্ম নিবন্ধন সনদপত্র দেখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এক্ষেত্রে নির্বাচনী ২ নম্বর ফরম ও বিশেষ ফরম পূরণ করতে হবে।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান জানান, উপজেলার সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সমন্বয়ে ২২৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৪৫ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করার আগে তাদেরকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কর্মকর্তা জানান, ১২ তারিখ পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষে চলবে যাচাই-বাছাই। এরপর আগামী ১৫ মে থেকে শুরু হবে ছবি তোলার কাজ।

Monday, May 07, 2012

বসতবাড়ি হারানোর আশঙ্কায় মাতামুহুরী তীরের বাসিন্দারা

মাতামুহুরী নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর ও কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ৪২ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ।
আগামী জুন মাসের আগে (বর্ষার আগে) নদীর প্রায় ১০ কিলোমিটার তীরে প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ না হলে পাহাড়ি ঢলের পানিতে ওই দুই ইউনিয়নের কয়েক হাজার বসতবাড়ি তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের জালিয়াপাড়ার এক লাখ ৩২ হাজার কেভির বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের একটি টাওয়ার (বড় খুঁটি) নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এরই মধ্যে টাওয়ারের নিচের অর্ধেক অংশের মাটি সরে গেছে। বাকি অংশের মাটি সরে গেলে টাওয়ারটি যেকোনো মুহূর্তে নদীতে ধসে পড়ে কক্সবাজার পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামছুল আলম জানান, নদীর তীরে বিদ্যুতের খুঁটির কিছু অংশ বিলীন হলেও এটি শক্তভাবে (পাইলিং করে) স্থাপন করা হয়েছে। এতে নদীর স্রোত বা পাহাড়ি ঢলের পানিতে খুঁটিটি সহজে ধসে পড়বে না। তার পরও এ ব্যাপারে নজরদারি রাখা হচ্ছে।
লক্ষ্যারচর গ্রামের বাসিন্দা ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জানান, নদীর করালগ্রাসে পড়ে লক্ষ্যারচর ও কৈয়ারবিল ইউনিয়নে চলাচলের একমাত্র খতিবে আজম সড়কটি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বর্ষার আগে স্থায়ী বাঁধ দিয়ে সংরক্ষণ করা না গেলে কয়েক শ বসতঘর, স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা তলিয়ে যাবে।
চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানান, পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের স্রোতে (পানিতে) গত পাঁচ বছরে এই দুই ইউনিয়নের দেড় হাজার একরের মতো ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভেঙে গেছে কয়েক শ বসতবাড়ি। বর্তমানে মাতামুহুরী ব্রিজ ( সেতু) থেকে প্রায় ৭০০ মিটার এলাকা (নদীর পার) ঝুঁকিতে রয়েছে।
লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর মোহামঞ্চদ মানিক জানান, বরাদ্দের ওই ২০ লাখ টাকা দিয়ে নদীর তীরে প্রায় ১০০ মিটারের একটি স্থায়ী (সিমেন্ট আর বালুর ব্লক তৈরি) বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু আরও কয়েকটি স্থানে এ রকম স্থায়ী বাঁধ নির্মিত না হলে দুই ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষ ঝুঁকির মুখে পড়বে।
স্থানীয় রুস্তম আলী চৌধুরীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব ইব্রাহীম চৌধুরী জানান, নদীর ভাঙনের কবল থেকে এলাকার ৫০ হাজার মানুষকে রক্ষার জন্য মাতামুহুরী সেতুর পূর্ব পাশ থেকে হাজীপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৭০০ মিটার প্রতিরক্ষা বাঁধ তৈরির জন্য ২০০৭ সালের ৬ জুলাই পাউবো কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর আবেদন করা হয়। ২০০৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর পাউবো কর্মকর্তারা সরেজমিন অনুসন্ধান করে সাড়ে তিন কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ঊর্ধ্বতন মহলে পাঠান। কিন্তু গত চার বছরেও ওই প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি।
পাউবো কক্সবাজারের সহকারী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম এর সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাতামুরী নদীর তীর সংরক্ষণে (বাঁধ নির্মাণের জন্য) বিশেষ বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন মহলে পত্র পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।