Sunday, May 04, 2014

দীপিকা, রণবীর, প্রিয়াঙ্কা, বানশালীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

গত বছর মুক্তি পাওয়া 'গলিও কি রাসলীলা: রাম-লীলা' ছবি মুক্তির আগেই বিতর্কের ঝড় উঠেছিল। ছবিটির মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে গত ২২ নভেম্বরের আগে ছবি মুক্তির ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ১৫ নভেম্বর ছবিটি মুক্তি দেওয়া হয়। সম্প্রতি ছবিটির নির্মাতা সঞ্জয় লীলা বানশালী, প্রযোজক কিশোর লুল্লা, ছবির তিন অভিনয়শিল্পী দীপিকা পাড়ুকোন, রণবীর সিং, প্রিয়াঙ্কা চোপড়াসহ ছবির সংগীত পরিচালক ও গীতিকারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। 'রাম-লীলা' ছবির কয়েকটি দৃশ্য ও সংলাপের মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে গত বছরের নভেম্বরে মামলা হয়েছিল। চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি 'রাম-লীলা' ছবির প্রযোজক, নির্মাতা, তিন অভিনয়শিল্পী, সংগীত পরিচালক ও গীতিকারের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়। কিন্তু আদালতে হাজির না হওয়ায় গতকাল ৩ মে তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস পি সিং। এক খবরে এ তথ্য জানিয়েছে ওয়ান ইন্ডিয়া। ম্যাজিস্ট্রেট এস পি সিং মুম্বাই পুলিশ কমিশনারকে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি আগামী ৪ জুন আদালতে হাজির করতেও বলেছেন।
প্রসঙ্গত, শেকসপিয়ারের 'রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট' অবলম্বনে 'গলিও কি রাসলীলা: রাম-লীলা' ছবিটি তৈরি করেন সঞ্জয় লীলা বানশালী। এতে 'রাম' ও 'লীলা' চরিত্রে অভিনয় করেন রণবীর সিং ও দীপিকা। ছবিটিতে আরও অভিনয় করেন রিচা চাদ্ধা, সুপ্রিয়া পাঠক, গুলশান দেবিয়া প্রমুখ। এ ছাড়া ছবির 'রাম চাহে লীলা' আইটেম গানে অংশ নেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। 'রাম-লীলা' ছবিটির মাধ্যমে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার পাশাপাশি যৌনতা, সহিংসতা এবং অশ্লীলতার অভিযোগ তোলা হয়। এসব অভিযোগে মামলা দায়েরও করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছিল, ছবির শিরোনাম 'রাম-লীলা' হলেও হিন্দু দেবতা রামের জীবনের সঙ্গে ছবির গল্পের কোনো মিল নেই। এতে করে দর্শকেরা বিভ্রান্ত হবেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১২ নভেম্বর 'রাম-লীলা' ছবির পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানশালী ও পরিবেশক সংস্থা ইরোস ইন্টারন্যাশনালকে ছবিটি মুক্তি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলেন আদালত। আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও নির্ধারিত তারিখ ১৫ নভেম্বরেই মুক্তি পায় ছবিটি। মুক্তির পরপরই ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভের ঝড় ওঠে। ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর ভারতের রাজধানী দিল্লির পাশাপাশি ইন্দোর, রাজকোট, জলন্ধরসহ আরও কয়েকটি রাজ্যে বিক্ষোভের ঝড় উঠলেও প্রথম দিনেই দারুণ ব্যবসা করে ছবিটি। এর মধ্যে ছবিটির বক্স অফিস আয়ের পরিমাণ ২০০ কোটি রুপি ছাড়িয়ে গেছে।

দুনিয়া বদলে গুগলের সাত প্রকল্প

মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যাবে উড়ুক্কু সাইকেল, রাস্তায় চলবে চালকবিহীন গাড়ি, মানুষের চোখে থাকবে বিশেষ চশমা; এগুলো এখন আর কোনো বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির বিষয় নয়। এসব নিয়েই কাজ করছে গুগল। মার্কিন প্রযুক্তি-বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, গুগল যে সব বিষয় নিয়ে কাজ করছে তা আর কেউ করছে না। যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে, গুগলের প্রধান নির্বাহী ল্যারি পেজ ধারণা করছেন, দুনিয়া বদলে দেওয়ার মতো পরিবর্তন আনবে গুগল। সার্চ দিয়ে যেমন তথ্য পাওয়ার বিষয়টিকে বদলে দিয়েছে গুগল তেমনি চশমা কিংবা অন্যান্য যন্ত্রপাতি দিয়েও দুনিয়াতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে গুগল। অনেকেই গুগলের গোপন পরীক্ষাগার 'এক্স ল্যাব' এর কথা শুনেছেন। গুগলের এ পরীক্ষাগারে অদ্ভুত সব পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলে। যার কোনোটি বাস্তবে আলোর মুখ দেখে আবার কোনো কোনোটি পরীক্ষাগারেই সুপ্ত থেকে যায়। প্রচলিত যে, যত অদ্ভুত ধারণাই হোক না কেনো গুগলের প্রকৌশলীরা তা গুগলের এ পরীক্ষাগারে বাস্তবায়ন করে দেখার সুযোগ পান। সম্প্রতি ব্যবসা ও প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট বিজনেস ইনসাইডারে দুনিয়া বদলে দিতে পারে গুগলের এমন ৭টি প্রকল্প নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

চালকবিহীন গাড়ি
দীর্ঘদিন ধরেই চালকবিহীন গাড়ি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে গুগল। গুগলের গাড়ি ইতিমধ্যে হাইওয়েতে নিরাপদভাবে চলাচলও করেছে৷ ভিডিও ক্যামেরা, রাডার সেন্সর ও লেজারের ব্যবহার এবং আশেপাশের গাড়ি ও পরিবেশ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে সামনে চলতে পারে গুগলের 'বুদ্ধিমান' গাড়ি। ২০১৭ সালের মধ্যে চালকবিহীন গাড়ি ব্যবহারের উপযোগী হবে বলে গুগল আশা করছে। এরপর সেটাকে পুরোপুরি বাণিজ্যিকীকরণ করে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আরও কয়েক বছর লাগবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গাড়ির পাশাপাশি চালকবিহীন স্বয়ংক্রিয় ট্যাক্সি তৈরির পরিকল্পনাও করেছে গুগল। গুগলের এই গাড়িতে নির্দিষ্ট রাস্তায় যাত্রী ওঠা-নামার সুবিধা থাকবে। গুগলের এ গাড়ির নাম হবে রোবো ট্যাক্সি। গুগলের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, চালকবিহীন ট্যাক্সি সুবিধা চালু হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার ধরন পাল্টে যাবে। চালক ছাড়াই নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাত্রীকে পৌঁছে দেবে গুগলের গাড়ি। গাড়ির উন্নত প্রযুক্তি দুর্ঘটনা কমাবে এবং পরিবেশের কোনো ক্ষতি করবে না।

উড়ুক্কু সাইকেল
যানজটে আটকে থাকা আর নয়। মাথার ওপর দিয়ে উড়বে পরিবেশ বান্ধব উড়ুক্কু সাইকেল। গুগলের প্রধান নির্বাহী ল্যারি পেজ উড়ুক্কু বাইক তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন। এটা এখনও নিছক কল্পনা হলেও মানুষ আরও বেশি পরিবেশবান্ধব যান হিসেবে সাইকেল ব্যবহার করবে এটাই তাঁর চাওয়া। তবে গুগলের উড়ুক্কু যান সাইকেল যে একেবারেই অসম্ভব নয় তা গুগলের সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলো দেখলেই বোঝা যায়। বিশ্লেষকেরা বলেন, গুগলের যে প্রযুক্তি সক্ষমতা ও দক্ষ প্রকৌশলী রয়েছে তা দিয়ে সহজেই ড্রোন বা চালকবিহীন বিমান তৈরি করা সম্ভব। আর এই প্রযুক্তিতে একদিন উড়ুক্কু সাইকেলও তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। এ ছাড়াও গুগল এরমধ্যেই রোবট গবেষণায় জোর দিয়েছে। গত কয়েক বছরের মধ্যেই নতুন প্রজন্মের রোবট তৈরি করতে পারে এমন সাতটি প্রতিষ্ঠানও কিনেছে গুগল। অবশ্য, গুগল তাঁদের রোবট নিয়ে পরিকল্পনার কথা কঠোরভাবে গোপন রেখেছে। এ বিষয়ে একেবারেই মুখ খুলতে নারাজ তাঁরা। গুগলের বিনিয়োগ দেখে ধারণা করছেন আগামী এক দশকের মধ্যে নতুন কিছু উপহার দিতে পারে প্রতিষ্ঠানটি।

বিশেষ কন্টাক্ট লেন্স
একটি বিশেষ কন্টাক্ট লেন্স নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে গুগল। এই কন্টাক্ট লেন্সের মাধ্যমে চোখের পানিতে গ্লুকোজের মাত্রা নির্ণয় করা সম্ভব হবে।গুগলের দাবি, তাদের তৈরি বিশেষ এই কন্টাক্ট লেন্স ডায়াবেটিস রোগীদের কাজে লাগবে। তাদের তৈরি কন্টাক্ট লেন্সে দুটি স্তর থাকবে। এই স্তরের মধ্যে ক্ষুদ্র ওয়্যারলেস চিপ ও গ্লুকোজ সেন্সর বসানো থাকবে। এই লেন্সের সঙ্গে বসানো ক্ষুদ্রাকার এলইডি লাইট চোখের পানিতে গ্লুকোজের পরিমাণ জানাবে। গুগল একজোড়া স্মার্ট কন্টাক্ট লেন্স তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ এই কন্টাক্ট লেন্সটিকে ব্যবহার উপযোগী করে তুলতে এখনও অনেক কাজের প্রয়োজন হবে। তাই এটি হাতের নাগালে পেতে আরও কিছুদিন দেরি হবে।

ইন্টারনেট বেলুন
'প্রজেক্ট লুন' নামের একটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে গুগল। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে সারা বিশ্বের মানুষের কাছে ইন্টারনেট বেলুনের সাহায্যে ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। মাটির নিচে বা প্রত্যন্ত এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করতে অভিনব এক পদ্ধতি গুগলের লুন প্রকল্পটি। ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ড থেকে প্রায় ৩০টি সুপারপ্রেসার বেলুন আকাশে উড়িয়ে এই প্রকল্পটি পরীক্ষা করে দেখে গুগল। এ বেলুনগুলো নিয়ন্ত্রিত পথে উড়তে সক্ষম হবে। এর নেটওয়ার্ক তৃতীয় প্রজন্মের ইন্টারনেটের (থ্রিজি) মতো গতি দেবে। গুগলের দাবি, সংযোগ বিচ্ছিন্ন বিপর্যয়গ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ততপরতায় সহায়তা করার ক্ষেত্রে একসময় ব্যবহার করা হবে ইন্টারনেট সরবরাহকারী এ বেলুন। এ প্রকল্পের আওতায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন বিশ্বের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা এ ইন্টারনেট সংযোগের সুবিধা পাবে।

মডুলার স্মার্টফোন
নিজের সুবিধা অনুযায়ী কম্পিউটার আপডেট করার মতো যন্ত্রাংশ বদল করে স্মার্টফোনও আপডেট করে নেওয়া যাবে। এমন একটি প্রকল্প 'আরা'। এ প্রকল্প নিয়ে অনেকদূর এগিয়েছে গুগল। গুগল জানিয়েছে, 'আরা' নামের এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে গ্রাহকরা তাঁদের স্মার্টফোনের জন্য প্রয়োজনমতো হার্ডওয়্যার আপগ্রেড করে নিতে পারবেন। কাস্টোমাইজ করার সুবিধাযুক্ত স্মার্টফোন তৈরির ক্ষেত্রে 'ফোনব্লকস' নামের একটি উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গুগল। বাজার বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, 'আরা' প্রকল্পটি সফল হলে প্রতি বছর নতুন ফোন কিনতে হবে না। এর পরিবর্তে নতুন প্রসেসর, কিংবা উন্নত ক্যামেরা মডিউলের মতো যন্ত্র কিনে নিয়মিত মোবাইল ফোন সর্বশেষ প্রযুক্তি দিয়ে হালনাগাদ করার সুবিধা থাকবে।

গুগল গ্লাস
গুগল গ্লাস বা গুগলের প্রযুক্তি চশমা এরমধ্যে প্রযুক্তি বিশ্বে পরিচিতি পেয়েছে। এই চশমা মানুষকে প্রযুক্তির আরও কাছাকাছি আনছে। এ বছর ভার্জিন আটলান্টিক গুগল গ্লাস ব্যবহার করে বিমানবন্দরে যাত্রীদের পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে। গুগল গ্লাসের উন্নত কয়েকটি সংস্করণ তৈরিতে কাজ করছে গুগল। ভিডিও দেখা, ছবি তোলা ও ওয়েবসাইট দেখার পাশাপাশি স্মার্টফোনের মতো বিভিন্ন কাজ করা যাবে এই গ্লাসের সাহায্যে। স্মার্টফোনের সঙ্গে এর মূল পার্থক্য কমান্ড দেওয়ার পদ্ধতিতে। কণ্ঠস্বর প্রযুক্তি চশমাটির ডান কাচের ওপর একটি ছোট ডিসপ্লে স্ক্রিন আছে। এটি গুগলের অ্যান্ড্রয়েডে চলে। গুগলের এ চশমাকে প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা পরিধানযোগ্য কম্পিউটিং পণ্য হিসেবে দেখছেন। ভবিষ্যতে পরিধেয় কম্পিউটার পণ্য ব্যবহারে আগ্রহী হবে মানুষ।

গুগল ফাইবার
গিগাবিট গতিতে ইন্টারনেট সংযোগ দিতে ফাইবার প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে গুগল। সেকেন্ডে ১০ গিগাবিট গতিতে তথ্য স্থানান্তর করা যাবে গুগলের ফাইবার প্রকল্পের মাধ্যমে। দ্রুতগতির ইন্টারনেট ব্যবস্থা তৈরির লক্ষে গুগলের নেওয়া এই পদ্ধতিটিকে বলা হচ্ছে 'পরবর্তী প্রজন্মের ইন্টারনেট' ব্যবস্থা। যুক্তরাষ্ট্রে চালু করা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট গুগল ফাইবার সার্ভিসের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে এক গিগাবিট তথ্য স্থানান্তর করে গুগল। এবার গুগল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা এমন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে যাতে তথ্য স্থানান্তরের এই গতি আরও দ্রুততর হবে। ২০১৭ সাল নাগাদ দ্রুতগতির এই ইন্টারনেট সেবা চালু করতে সক্ষম হবে গুগল।

ধানমন্ডি মাঠ নিয়ে রিট শুনতে বিচারপতি বিব্রত

রাজধানীর ধানমন্ডি মাঠের নির্মাণ বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে করা রিট আবেদন শুনতে বিব্রতবোধ করেছেন হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চের একজন বিচারপতি। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে বিষয়টি আজ রোববার কার্যতালিকায় ছিল। বেলা আড়াইটার দিকে দ্বৈত বেঞ্চের একজন বিচারপতি বিব্রতবোধ করেছেন জানিয়ে আদালত পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফিদা এম কামাল ও সারা হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করিম। অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা প্রথম আলোকে বলেন, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে একজন বিচারপতি বিব্রতবোধ করে বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
ধানমন্ডি খেলার মাঠের নির্মাণ বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে করা রিট আবেদন শুনতে গত ২৮ এপ্রিল অপারগতা প্রকাশ করে তা কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি হাবিবুল গনির সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। এরপর বিষয়টি বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি কাজী ইজারুল হক আকন্দের দ্বৈত বেঞ্চে পাঠানো হয়। স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, ইকবাল হাবিব, ফারজানা শাহনাজসহ স্থানীয় ছয় বাসিন্দা ২১ এপ্রিল রিটটি করেন। ধানমন্ডির আবাসিক এলাকায় ৮ নম্বর সড়কসংলগ্ন খেলার মাঠে নির্মাণকাজ প্রসঙ্গে ৯ এপ্রিল রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) এক চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করা হয়। এতে বলা হয়, ওই চিঠি ইমারত নির্মাণ আইনের ৩ ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আবেদনে ধানমন্ডি খেলার মাঠে সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধে তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা চাওয়ার সঙ্গে ওই চিঠির কার্যকারিতা স্থগিতের আরজি রয়েছে। এ ছাড়া, মাঠের ভেতর চলমান সব ধরনের অবৈধ স্থাপনার নির্মাণকাজ বন্ধে এবং সেখানে থাকা অবৈধ স্থাপনা অপসারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। উন্মুক্ত স্থান বা খেলার মাঠ হিসেবে ওখানে জনগণের প্রবেশাধিকার নিশ্চিতে পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, এ মর্মেও রুল চাওয়া হয়।

স্বতঃস্ফূর্ত হরতালে স্তব্ধ নারায়ণগঞ্জ by শরিফুল হাসান @প্রথম আলো

নারায়ণগঞ্জের সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে হত্যার প্রতিবাদে আজ রোববার জেলায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে হরতাল চলছে। হরতালের সমর্থনে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে জেলা আইনজীবী সমিতিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শহরে মিছিল বের করেছে। এ সময় বেশ কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। হরতালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ট্রেন ও বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। শহরে রিকশাও চলাচল করেনি। দোকানপাটও বন্ধ ছিল। হরতালকে কেন্দ্র করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
মিছিল, সমাবেশ
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে হরতালের সমর্থনে জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে প্রেসক্লাবের সামনে যায়। এ সময় আইনজীবী সমিতির নেতারা নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনের বঙ্গবন্ধু সড়কে চেয়ার বসিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে সেখানে বক্তব্য দেন। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন জানান, মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে হরতাল পালন করছে। হরতালের সমর্থনে শহরের ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে গণসংহতি আন্দোলন বিক্ষোভ করেছে। একই জায়গায় পৃথকভাবে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ হরতালের সমর্থনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। সেখানে বক্তব্য দেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বিসহ অন্য নেতারা। সেখানে জেলা বাসদ-সিপিবিও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।
ট্রেন, বাস, রিকশা চলাচল বন্ধ
হরতালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করেনি। সকাল সাতটার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লাইনে ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জগামী একটি ট্রেন আটকে দেয় পিকেটাররা। রেলওয়ে নারায়ণগঞ্জ স্টেশনমাস্টার গোলাম মোস্তফা জানান, সকাল সাতটার দিকে ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জে আসা একটি ট্রেন পিকেটাররা আটকে দেওয়ার পর থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোডের চাঁদমারী এলাকায় বেশ কয়েকটি পয়েন্টে হরতালের সমর্থনে আইনজীবী ও তাঁদের সহকারীরা মিছিল করেছেন। এ সময় তাঁরা সড়কে বাস ফেলে রেখে ব্যারিকেড দেন। যুবকেরা লাঠিসোঁটা নিয়ে যান চলাচলে বাধা দেন। সকাল সাড়ে আটটার দিকে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে পিকেটাররা একটি গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। শহরে রিকশাও চলেনি। মানুষ হেঁটে চলাচল করছে। হরতালে শহরের দোকানপাট বন্ধ ছিল।

'যানবাহন বন্ধ থাকলেও আমাদের কষ্ট হচ্ছে না'
পোশাক কারখানার কর্মকর্তা আবদুর রহিম বলেন, 'গুম, খুনের কারণে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। হরতালে মানুষের কষ্ট হলেও মানুষ এই হরতালকে সমর্থন করছে। এ কারণে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও আমাদের কোনো কষ্ট হচ্ছে না। আমরা চাই দেশ থেকে সব গুম, খুন বন্ধ হোক এবং হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা গ্রেপ্তার হোক।'
সিটি করপোরেশনে কর্মবিরতি
নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে হত্যা, প্রশাসনের ব্যর্থতা ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করার দাবিতে নারায়ণগঞ্জ নগর ভবনের সামনে সকাল ১০টা থেকে ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু করেছেন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সেখানে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত্ আইভী ও কাউন্সিলররা বক্তব্য দেন।
গডফাদারদের কাছ থেকে মানুষ মুক্তি চায়: আইভী
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত্ আইভী বলেন, একের পর এক হত্যাকাণ্ডে নারায়ণগঞ্জবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। একটি পরিবারের কাছে নারায়ণগঞ্জবাসী জিম্মি হয়ে পড়েছে। গডফাদারদের কাছ থেকে মানুষ মুক্তি চায়। মেধাবী ছাত্র ত্বকী, ব্যবসায়ী আশিক, ভুলু, নাট্যকার দিদারুল ইসলামের খুনিদের বিচার হয়নি। তিনি আরও বলেন, সর্বশেষ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ গুম, হত্যা চায় না। নারায়ণগঞ্জের মানুষ শান্তি চায়। তাই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান। তবে সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বিভাগ এই কর্মসূচির আওতার বাইরে ছিল।
সতর্ক অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদউদ্দিন জানান, হরতালে কোথাও অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

নূর হোসেনের গাড়ি মিলল শামীম ওসমানের আত্মীয়ের কারখানায় by শরিফুল হাসান @প্রথম আলো

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকা থেকে নূর হোসেনের ব্যবহূত ব্যক্তিগত গাড়িটি (প্রাইভেট কার) উদ্ধার করেছে পুলিশ। সাংসদ শামীম ওসমানের স্বজনদের মালিকানাধীন একটি গ্লাস ফ্যাক্টরিতে গাড়িটি পাওয়া গেছে। আজ রোববার দুপুর দেড়টার দিকে গাড়িটি উদ্ধার করা হয়েছে। গাড়িটি নারায়ণগঞ্জের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও তাঁর চার সহযোগীকে অপহরণ মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন ব্যবহার করতেন। এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকার জেএমএস গ্লাস ফ্যাক্টরি থেকে গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। গাড়িটির নম্বর (ঢাকা মেট্রো: গ ২৯৮৮৬২)। ওই ফ্যাক্টরিটি সাংসদ শামীম ওসমানের শ্বশুর সাইফুদ্দিন আহমেদ, দুই মামাশ্বশুর শামসুদ্দিন আহমেদ, জালালউদ্দিন আহমেদ ও শ্যালক তানভীর আহমেদের মালিকানাধীন বলে জানা গেছে। কারখানার মহাব্যবস্থাপক আব্দুল আউয়াল বলেন, প্রায়ই গাড়িটি এখানে রাখা হতো। সর্বশেষ গত শুক্রবার দুপুরে গাড়িটি কারখানায় রাখা হয়। গাড়িটি কেন রাখতে দিতেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'সেটা আপনারা বুঝে নেন।' জেএমএস গ্লাস ফ্যাক্টরিটি সাংসদ শামীম ওসমানের মামাশ্বশুর শামসুদ্দিন আহমেদ ও জালালউদ্দিন আহমেদের বলে তিনি জানান। জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিন জানান, গাড়িটি উদ্ধার করা হয়েছে। রেকার দিয়ে গাড়িটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।