Wednesday, December 15, 2010

সরকারের প্রতি খোন্দকার দেলোয়ারঃ সাহস থাকলে পদত্যাগ করে এখনই নির্বাচন দিন

সরকারের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বিএনপির নেতারা বলেছেন, সাহস থাকলে পদত্যাগ করে এই নির্বাচন কমিশনের অধীনেই জাতীয় নির্বাচন দিন। তাঁরা দাবি করেন, এতেই সরকারের ভরাডুবি নিশ্চিত। আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা সরকারের প্রতি ওই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। তাঁরা বলেন, সরকারের সময় শেষ হয়ে গেছে। এখন যেকোনো সময়ই তাদের পতন হবে।

বিএনপির মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন সভাপতির ভাষণে বলেন, ‘নির্বাচন দিয়ে প্রমাণ করুন জনগণ আপনাদের সঙ্গে আছে, নাকি খালেদা জিয়ার সঙ্গে আছে? আমরা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলাম। সাহস থাকলে এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুন। এই নির্বাচন কমিশনের অধীনেই জাতীয় নির্বাচন দিয়ে দেখুন। আপনাদের ভরাডুবি নিশ্চিত।’
গণতন্ত্র, দ্রব্যমূল্য, পোশাকশিল্প পরিস্থিতিসহ সব ক্ষেত্রে সরকারকে ব্যর্থ বলে আখ্যায়িত করেন খোন্দকার দেলোয়ার। তিনি আরও বলেন, ‘সারা দেশের মানুষ এখন গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে। জনতার এই রোষের সামনে কোনো সরকার টিকে থাকতে পারে না। এই সরকারও টিকবে না।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, দেশ রক্ষায় খালেদা জিয়া আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন এবং এতে তারেক রহমান এসে যোগ দেবেন। দুর্বার আন্দোলনে এই সরকারের পতন নিশ্চিত হয়ে যাবে।
দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘স্বাধীনতার ৩৯ বছর পর আজ দেশের ৪০ শতাংশ মানুষ দুই বেলা খেতে পায় না। গণতন্ত্রের মুখোশ পরে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র হরণ করছে।’
মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দলের নেতা-কর্মীদের সমালোচনা করেন। উপস্থিত নেতা-কর্মীরা স্লোগান দেওয়ার সময় সমালোচনা করে গয়েশ্বর বলেন, ‘এখানে গলা ফাটিয়ে স্লোগান দিয়ে দেখাচ্ছেন, অথচ রাজপথে আন্দোলনের সময় কাউকে খুঁজে পাই না।...পদ রক্ষা, কমিটি দখল, ব্যক্তিসম্পদ দখলে রাখার পাঁয়তারা বন্ধ করে রাজপথ দখলের চেষ্টা করেন।’
মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আপনারা স্লোগান শোনাচ্ছেন! এই স্লোগান এখানে শোনানোর দরকার নেই। পারলে রাজপথে স্লোগান দেবেন। অবশ্য এখানে চর্চা করতে পারেন।’
সভায় ৫০০-এর বেশি নেতা-কর্মী যোগ দেন। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম মিঞা, বেগম সরোয়ারী রহমান, আমান উল্লাহ আমান, রুহুল কবীর রিজভী, সুলতান সালাহউদ্দিন প্রমুখ এতে বক্তব্য দেন।

আমরাও মুক্তিযোদ্ধা: জামায়াতনেতা আজহারুল ইসলাম

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করলেও এবার নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা বলে দাবি করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল বলেছেন, ‘জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী যে সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন, আমরাও সে সেক্টরে যুদ্ধ করেছি। তিনি যদি মুক্তিযুদ্ধের সময় নয় মাস সরকারি চাকরি করে রাজাকার না হন, তাহলে আমরা বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে কাজ করে কেন রাজাকার হব। আমরাও মুক্তিযোদ্ধা।’

বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা মহানগর জামায়াত আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ টি এম আজহার এসব কথা বলেন। সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা যা খুশি তা-ই করবেন, যাকে খুশি রাজাকার বানাবেন, এটা হবে না।’
উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াত পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সক্রিয় সহযোগিতা করেছিল। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সহযোগী রাজাকার, আল বদর বাহিনী গঠনেও তৎকালীন জামায়াত ও তার ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা-কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। জামায়াতের বর্তমান কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের অধিকাংশ সদস্যই চিহ্নিত স্বাধীনতাবিরোধী।
জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান শীর্ষস্থানীয় নেতাদের অনেকেই ছিলেন আল বদর বাহিনীর নেতৃত্বে। মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাক্ষিক গোপন প্রতিবেদনে (ফোর্টনাইটলি সিক্রেট রিপোর্ট অন দ্য সিচুয়েশন ইন ইস্ট পাকিস্তান) দেখা যায়, জামায়াতের বর্তমান আমির মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ এই বাহিনী সংগঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এই প্রতিবেদনে দেখা যায়, এ টি এম আজহারসহ জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় বর্তমান নেতাদের অনেকেই আলবদর বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেন।
অথচ আজকের আলোচনা সভায় এ টি এম আজহার এসব ভূমিকা অস্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার পর থেকে মিথ্যা কথা প্রচার করা হচ্ছে। জনগণ এটা বিশ্বাস করলে আমাদের আজ এ অবস্থা হতে পারত না। আমাদের লোকেরা সাংসদ হতে পারত না। বাংলাদেশের লোকরা এসব বিশ্বাস করে না। টেলিভিশনে আমাদের যতই যুদ্ধাপরাধী বলা হোক না কেন, জনগণ তা বিশ্বাস করে না।’
বিজয় দিবসের প্রতি ইঙ্গিত করে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘এই দিবস এলে তারা (আওয়ামী লীগ) একটি কথা বলে, “রাজাকারমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই”। রাজাকারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার নামে তারা আসলে ইসলামমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চায়। জীবন থাকতে আমরা ইসলামমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে দেব না।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলা, আহত ৭

পূর্বশত্রুতার জের ধরে ছাত্রদলের কর্মীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলায় সাতজন আহত হয়েছেন। আজ বুধবার দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। সূত্র জানায়, আজ ক্যাম্পাসে আসেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কর্মীরা। বেলা দেড়টার দিকে তাঁরা ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়ার সময় প্রধান ফটকের সামনে পৌঁছালে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে ছাত্রদলের কর্মী আসাদুজ্জামান রানা, মিজানুর রহমান, ইব্রাহিম কবির, মোর্শেদ আলম, মাসুম পারভেজসহ সাতজন আহত হন। তাঁদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান হোসেন বলেন, ‘বিজয় দিবস উপলক্ষে ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে গেলে ছাত্রলীগ অন্যায়ভাবে আমাদের ওপর হামলা চালায়।’
তবে ছাত্রলীগ সভাপতি কামরুল হাসান দাবি করেন, ‘ছাত্রলীগনেতা মনা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কয়েকজনকে প্রতিহত করা হয়েছে মাত্র।’
প্রক্টর কাজী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ এলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের চেয়ারম্যান মুফতি ইজহারুল আটক

ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের চেয়ারম্যান মুফতি ইজাহারুল ইসলামকে আজ বুধবার বিকেল সোয়া চারটার দিকে আটক করেছে র‌্যাব। চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় অবস্থিত জামিয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা থেকে ইজহারুলকে আটক করা হয়। তিনি এই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক।

ইজহারুলকে আটকের প্রতিবাদে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের সামনের রাস্তায় নেমে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করছে।
র্যাব-৭ এর কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল সাজ্জাদ হোসাইন এবং ওই মাদ্রাসার শিক্ষক মিজানুর রহমান ইজহারুলের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাজ্জাদ হোসাইন জানান, গত রোববার চট্টগ্রামের হাটহাজারী এবং গত সোমবার ভোরে রাউজান ও কাউখালী সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকার গোদাড়পাড় থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। ওই পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদে ইজহারুল ইসলামের নাম বের হয়ে এসেছে। তাই আজ তাঁকে আটক করা হয়েছে। এদিকে আজ সকালে মুফতি ইজাহারুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করে ওই পাঁচজনকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন।

 হাইকোর্টের রায় কার্যকর না করা পর্যন্ত জাহাজ আমদানি বন্ধ

জাহাজ ভাঙা শিল্পের ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে দেওয়া হাইকোর্টের রায় কার্যকর না করা পর্যন্ত জাহাজ আমদানি বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই রায়ের আলোকে স্বাস্থ্য-ঝুঁকি এড়াতে তিন মাসের মধ্যে নীতিমালা প্রণয়ন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে রসায়নবিদ, পদার্থবিদ, পরিবেশবিদ, আইনবিদ, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
এর আগে ২০০৯ সালের ১৭ মার্চ ও চলতি বছরের ১১ মে হাইকোর্ট কয়েক দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দিয়েছিলেন। ওই রায়ে জাহাজ আমদানির ক্ষেত্রে পরিবেশগত ছাড়পত্র ও বর্জ্যমুক্তকরণ সনদ নেওয়ার কথা বলা হয়। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকিমুক্ত ছয়টি আইনের অধীনে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করতে বলা হয়। সেই সঙ্গে এসব বিষয় তদারকি করার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
জানা যায়, সম্প্রতি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত একটি খসড়া তৈরি করেছে সরকার। এ ছাড়া আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ২২টি জাহাজ আমদানি করা হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে হাইকোর্টের রায় অনুসরণ করা হয়নি। তাই হাইকোর্টের ওই রায়ের আলোকে নীতিমালা প্রণয়ন, নীতিমালা তৈরি না করা পর্যন্ত জাহাজ আমদানি বন্ধ ও ইতিমধ্যে আনা জাহাজগুলো না ভাঙার নির্দেশনা চেয়ে গত রোববার বেলা হাইকোর্টে আবেদন করে। এ আবেদনের ওপর দুই দিনের শুনানি শেষে আজ আদালত আদেশ দেন।
আদেশে আদালত বলেন, মানুষের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। জাহাজ আনার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য-ঝুঁকি না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। ইতিপূর্বে দেওয়া রায় অনুসরণ করতে হবে। ওই রায় অনুসরণ না করা পর্যন্ত বাংলাদেশের জলসীমায় কোনো জাহাজ প্রবেশ করতে পারবে না।
আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান, ইকবাল কবির, শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে রোকনউদ্দিন মাহমুদ, আনিসুল হক ও শেখ ফজলে-নূর তাপস মামলা পরিচালনা করেন।