Saturday, February 12, 2011

অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যাংক পরিচালকদের বৈঠক

র্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে নিজস্ব মূলধন বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যদিকে প্রথম আলোতে প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে বিষোদ্গার করেছেন কোনো কোনো রাজনৈতিক ব্যাংক পরিচালক। অবশ্য আরও কয়েকজন পরিচালক বলেছেন, ব্যাংকের আর্থিক সূচক যদি খারাপ থাকে, উদ্বেগজনক হয়, সেদিকেই নজর দেওয়া উচিত।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাষ্ট্র মালিকানাধীন জনতা, রূপালী ও বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের সঙ্গে বৈঠককালে এসব পরামর্শ ও আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে এ বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান, অর্থসচিব মুহাম্মদ তারেক, ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শফিকুল ইসলাম পাটোয়ারীসহ তিন ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান, পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র জানায়, অর্থমন্ত্রী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে আরও বেশি যত্নবান হওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের সদস্যদের সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যাংক পরিচালনাকে গতিশীল করতে বলেন।
সূত্র জানায়, বৈঠকের শুরুতে জনতা ব্যাংকে নিয়োজিত একজন রাজনৈতিক পরিচালক প্রথম আলোর বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেন। তিনি বলেন, এসব ষড়যন্ত্র। প্রধানমন্ত্রীও এই পত্রিকার বিরুদ্ধে সংসদে বক্তব্য দিয়েছেন। বৈঠক ডাকা হলেই পত্রিকাটি এমন সব প্রতিবেদন ছাপে। তিনি বলেন, ‘আমি ব্যাংকের গাড়ি ব্যবহার করি না। অথচ বলা হচ্ছে গাড়ি ব্যবহার করি।’
এই পরিচালককে সমর্থন করেন আরও কয়েকজন রাজনৈতিক পরিচালক। তাঁরা সংবাদপত্রের সমালোচনা করেন। কিন্তু এ পর্যায়ে একজন পরিচালক বলেন, পত্রিকায় তথ্য কীভাবে গেল, সেটা খুঁজে দেখার চেয়ে আগে দেখা দরকার, তথ্য-উপাত্ত সঠিক কি না। যদি তথ্য-উপাত্ত, ব্যাংকের আর্থিক সূচকগুলো সঠিক হয়, যদি ব্যাংক থেকে অর্থ নিয়ে গিয়ে শেয়ারবাজারে খাটানো হয়, তবে তা লুকানো যাবে না। বর্তমান পরিচালকেরা যখন দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন তখন কিন্তু সব তথ্য-উপাত্ত বেরিয়ে যাবে। ব্যাংকের অবস্থাও খারাপ হয়ে যাবে। ফলে এখন ব্যাংক যদি সঠিকভাবে না চলে, তাহলে ব্যাংকগুলোকে সঠিক পথে আনতে হবে।
এ বক্তব্যের পর বৈঠকের পরিবেশ বদলে যায়। অর্থমন্ত্রীসহ আরও কয়েকজন ব্যাংকের আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষা ও ভালোভাবে ব্যাংক চালানোর আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, ব্যাংকের আর্থিক সূচক ভালো থাকলে এসব প্রচারণা হবে না।
অর্থমন্ত্রী এ পর্যায়ে বলেন, রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের অনেক সামাজিক কাজ করতে হয়। যে কারণে কিছু তদবির আসে। এগুলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া সব আমলেই ছিল। তবে বর্তমান আমলে ব্যাংকের অনেক উন্নতিও হয়েছে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বেসিক ব্যাংকের কর্মকাণ্ড নিয়ে একটি প্রচারমাধ্যমে নেতিবাচক সংবাদ পরিবেশিত হয়েছে। সংবাদটি অত্যন্ত অপরিপক্ব ও অজ্ঞতাপ্রসূত। এর আগেও এ ধরনের সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে, যার কোনো ভিত্তি নেই।
এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি অর্থমন্ত্রী সোনালী ও অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

No comments:

Post a Comment